বঙ্গবন্ধুতে নিয়োগ জটিলতা

অর্ধশত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভাঙচুর মামলা

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৯, ০৩:১৩ এএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) যেসব চিকিৎসক গত মঙ্গলবার বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে চিকিৎসক নিয়োগ নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এসব চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওইদিন উপাচার্যের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়। এসব চিকিৎসকদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও আওয়ামী লীগপন্থি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সঙ্গে যুক্ত।

গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে বিএসএমএমইউয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। গতকাল বুধবার শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওসি বলেন, বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মামলার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মামলার আসামি এমন এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা গিয়েছিলাম নিয়োগ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করতে। নিচতলা থেকে দোতলায় ঢুকতে দু’দফায় পুলিশ আমাদের বাধা দিয়েছে ও এক পর্যায়ে লাঠিচার্জ করেছে। গালিগালাজ করেছে। ‘দেখে নেব’ বলে শাসিয়েছে। তারপরও আমরা উপাচার্যের কক্ষে গিয়ে আলোচনা করি এবং উপাচার্য তাৎক্ষণিকভাবে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এই চিকিৎসক আরও বলেন, আমাদের তিনটি দাবি ছিলÑ নিয়োগ বাতিলের ঘোষণা দেওয়া, ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ প্রত্যাহার করা ও যে সব পুলিশ আমাদের ওপর হামলা করেছে তাদের বিচার। উপাচার্য বলেছিলেন, বৃহস্পতিবারের সিন্ডিকেট সভায় এসব দাবি পূরণের উদ্যোগ নেবেন। অথচ সিন্ডিকেট সভার আগেই তিনি আমাদের নামে মামলা করে পরিস্থিতি আরও অসহিষ্ণু করে তুললেন। এই মামলার মধ্য দিয়ে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধান  চান কি নাÑ তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসকরা মামলার বিষয়টি বিএমএ ও স্বাচিপ নেতাদের জানিয়েছেন এবং আজ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে উভয় সংগঠনের নেতারা আলোচনায় বসবেন বলে জানান।

তবে এই মামলা বা সেদিন বিশ^বিদ্যালয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাচিপের সাংগঠনিক বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ। তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা বিশ^বিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপার। সেখানকার চিকিৎসকদের বিষয়। এর সঙ্গে স্বাচিপ জড়িত না। এটা স্বাচিপের সাংগঠনিক ব্যাপারও না। তারা ওই বিশ^বিদ্যালয়ে চাকরি করেন। ওখানে আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। আমরা এর সঙ্গে যুক্ত না। এই সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব বিশ^বিদ্যালয় উপাচার্যের।

চিকিৎসক নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত চিকিৎসকরা অবশ্য এ মামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এসব চিকিৎসকের প্রতিনিধি ডা. মাঈদুল হাসান শিপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, যে-সব চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, আমরা তাদের যে কোনো কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি এবং প্রশাসনের এই মিথ্যা বানোয়াট মামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের পদত্যাগ দাবি করছি।

গত ২০ মার্চ বিএসএমএমইউতে ২০০ চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষা হয়। ফলপ্রকাশ হয় ১২ মে। ১৮০ জন মেডিকেল অফিসার ও ২০ জন ডেন্টাল চিকিৎসক পদে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৮ হাজার ৫৫৭ জন চিকিৎসক অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় মোট ৮২০ জন উত্তীর্ণ হন। ফল ঘোষণার পর থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ আসতে থাকে। পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন পরীক্ষার্থী চিকিৎসকরা। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এক পর্যায়ে গত রবিবার পুলিশ ও বিশ^বিদ্যালয় আনসার চিকিৎসদের ওপর লাঠিচার্জ করে ও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। এমনকি উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই গত সোমবার থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। সংকট সমাধানে শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার বিএমএ ও স্বাচিপের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় ও পুলিশ লাঠিচার্জ করে। বৈঠকে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেন উপাচার্য। পরে রাতে এসব চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত