সব নাগরিকের তথ্য একই সফটওয়্যারে আনছে পুলিশ

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ০২:৫৩ এএম

এবার দেশের সব বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করে তা একই সফটওয়্যারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস) নামের এই সফটওয়্যারে নাগরিকের তথ্য যুক্ত করার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব ইউনিটে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব থানা, ফাঁড়ি, তদন্তকেন্দ্র ও বিট পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন। রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার এবং মহানগর এলাকায় কমিশনার ও উপকমিশনাররা এ কাজ তদারকি করছেন। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নাগরিক তথ্য সংগ্রহের কাজ জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। আজ শনিবার ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন।

সারা দেশে নাগরিক তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকল ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিকদের তথ্য সংগ্রহ করে সিআইএমএস সফটওয়্যারে রাখার জন্য পুলিশের সকল ইউনিটকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউনিটগুলো নিজ এলাকার নাগরিক তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রথমে মেট্রোপলিটন এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যায়ক্রমে জেলা শহর, উপজেলা শহর ও অন্যান্য এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’ এই সফটওয়্যার অপরাধীদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও কাজ করবে বলে জানান তিনি।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রোজার আগেই আমরা ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা পেয়েছি। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানা সব ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে সব নাগরিক তথ্য সংগ্রহের কোনো নির্দেশনা আমরা এখনো পাইনি। তবে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের পাশাপাশি নাগরিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করা সম্ভব হবে।’   

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের পরামর্শে ডিএমপি ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিআইএমএস সফটওয়্যার চালু করে। ঢাকার ৫০টি থানা এলাকায় এই সফটওয়্যারে এক কোটিরও বেশি নাগরিকের তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘নগরবাসীর একটি টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বের উন্নত শহরগুলোর মতো আমরা ঢাকা শহরের নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করেছি। আধুনিক তথ্য ডেটাবেইস করেছি, যার নাম সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস)। এই মুহূর্তে রাজধানীর প্রায় এক কোটি নাগরিকের তথ্য আছে আমাদের ডেটাবেইসে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হলে ওই এলাকার ওই বাসায় কোন লোক বসবাস করে এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে আমরা তা সহজেই খুঁজে বের করতে পারি।’

ডিএমপির উপকমিশনার মাসুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তার কথা ভেবে বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যদের তথ্য নিবন্ধনের লক্ষ্যে সর্বপ্রথম রমনা থানা থেকে সফটওয়্যারভিত্তিক ডেটাবেইসের কাজ শুরু হয়। এখন পর্যায়ক্রমে সব নাগরিকের তথ্য একই সফটওয়্যারে আনা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আজ থেকে ডিএমপিতে নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ শুরু হবে। ডিএমপি কমিশনার এই সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন।

তিনি আরও জানান, রাজধানীতে ডিএমপি কর্র্তৃক নির্ধারিত একটি নিবন্ধন ফরম প্রত্যেকটি থানা ও ফাঁড়িতে পাওয়া যাচ্ছে। আবার বিট পুলিশের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফরম বিলি করে পূরণ করার পর আবার নিয়ে আসছেন। ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে থানায় জমা দেওয়ার আগে ফটোকপি নিজের কাছে রেখে দিতে হবে। ৫০ থানার মোট ৩০২ বিটে বসবাসরতদের তথ্য সংগ্রহের জন্য এসআই ও এএসআইসহ বেশ কয়েক পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। কেউ নতুন বাসা বাড়া নিলে বা ঠিকানা পরিবর্তন করলে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তির কর্মক্ষেত্র অন্য থানা এলাকায় হলে তার বাসা যে এলাকায় সেই থানায় ফরম জমা দিতে হবে।

তথ্য নিবন্ধনে বাড়িওয়ালার সুবিধা সম্পর্কে তিনি বলেন, নিবন্ধনের ফলে কোনো অপরাধী বাড়িতে অবস্থান করতে পারবে না। ভাড়াটিয়ার কোনো অপরাধের দায়ও বাড়ির মালিককে নিতে হবে না। কোনো ভাড়াটিয়া অপরাধী হলে ফরম পূরণে গড়িমসি করবে অথবা অন্যত্র চলে যাবে।

ভাড়াটিয়ার সুবিধা প্রসঙ্গে মাসুদুর রহমান বলেন, কোনো শত্রুপক্ষ মিথ্যা মামলা করলে ঢাকার অবস্থানের প্রমাণ থাকায় অহেতুক হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। সফটওয়্যারভিত্তিক ডেটাবেইস সংরক্ষণ করার ফলে একটি স্মার্টফোনের মাধ্যমে যেকোনো সময় যেকোনো ব্যক্তির পরিচিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত