প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন সব সময়ই চ্যালেঞ্জ তবে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নেতিবাচক কোনো বিষয় নেই বলে দাবি করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
শনিবার দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এ বাজেট অনন্যসাধারণ দলিল। বাজেটে কোথাও নেতিবাচক কোনো বিষয় নেই। এটা জনবান্ধব পজিটিভ বাজেট। যারা বাজেট নেগেটিভ দৃষ্টিতে দেখছে, তাদের বেলায় এ লাইনটি প্রযোজ্য- যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা। মূলত, তারা আওয়ামী বিদ্বেষ থেকে মনগড়া বাজেট নিয়ে বিরূপ মন্তব্য ও বিদ্বেষমূলক কথা বলছেন।
বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব জাতীয় সংসদের সামনে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বাজেট পেশের তিন দিন পর এ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় আওয়ামী লীগ।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দীপু মনি, আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবদুস সোবহান গোলাপ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, অসীম কুমার উকিল, দেলোয়ার হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।
এই বাজেটকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন সব সময়ই চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করেছি। এই চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার নতুন সরকার নতুন স্পিরিট নিয়ে, নতুন উদ্যম নিয়ে এ বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করবে।
তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ অভিহিত করে বিএনপি বলেছে, জনগণের বিরুদ্ধে এ বাজেট দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত দশ বছর ধরে প্রতিটি বাজেট সম্পর্কে বিরোধী দল বিএনপি এ ধরনের মনোভাবই প্রকাশ করেছে। কিন্তু প্রত্যেকটা বাজেটই দেশকে নানা সোপান অতিক্রম করে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করে নিয়ে এসেছে। কাজেই তাদের এসব বিরূপ সমালোচনা মনগড়া এবং গতানুগতিক।
তিনি বলেন, বিএনপি গত দশ বছর ধরে বাজেট সম্পর্কে যে মনোভাব প্রকাশ করেছে ঠিক একই মন্তব্য এবারও করেছে। এবারও এর কোনো ব্যতিক্রম আমরা লক্ষ্য করিনি। এটা তাদের নেতিবাচক রাজনীতির নেতিবাচক মনোভাবেরই প্রতিফলন।
লিখিত বক্তব্যে বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে জনগণের কল্যাণে কোনো প্রস্তাব থাকলে তা সুনির্দিষ্টভাবে সংসদে উপস্থাপন করুন। যুক্তিসংগত প্রস্তাব গ্রহণের মতো উদারতা সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সরকারের রয়েছে।
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, দেশবাসী ভুলে যায়নি, বিএনপি নেতারা গত ১০টি বাজেট ঘোষণার পর বাজেট নিয়ে নানা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং বরাবরই বলেছেন বাজেট বাস্তবায়ন হবে না, অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে এ ধরনের বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতে দেখা গেছে।
'এবারও তারা একই কায়দায় অযৌক্তিকভাবে জনকল্যাণকর এই বাজেটের বিরুদ্ধে তাদের চিরাচরিত বিরোধিতার রাজনীতি শুরু করেছে। অবশ্য বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মাত্র ৫০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছিল। তাদের পক্ষে জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে শেখ হাসিনা সরকারের দেওয়া ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেটের ব্যাপকতা অনুধাবন সম্ভব নয়।'
দলের পক্ষ থেকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটকে স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, দেশের সর্বস্তরের জনগণ এই বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যুগোপযোগী, জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আওয়ামী হয় ম মুস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানায় আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন এবারের বাজেটে ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার সঙ্গে মিলিয়ে যারা আজকে বাজেট সম্পর্কে অপপ্রচার করছে, আমাদের বুঝতে হবে এই বাজেট এক বছরের জন্য। সরকারের পাঁচ বছরের জন্য বাজেট প্রণীত হয়নি।
