ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপ বিস্ফোরক। এক দিন ঠিকমতো খেলে দিলে তাদের সামনে দাঁড়াতে পারে কে? কিন্তু ‘প্রায় ডু অর ডাই’ হয়ে ওঠা আজকের ম্যাচের আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফী এ নিয়ে চিন্তিত নন। পরিকল্পনা আছে দলের। উইন্ডিজের ভয়ংকর ব্যাটিং লাইনআপকে আগের মতো সামলে নেবে টাইগার বোলিং।
‘এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। বিশেষ করে শেষ তিন ম্যাচে কয়েকটা পয়েন্ট হারিয়ে ফেলায়।’ বাংলাদেশের আছে বাঁহাতি সাকিব আল হাসান। তিনি সেরা বোলার। তবে বিশেষ কারণে ৩৫ বছরের মাশরাফী গতকাল টনটনের কাউন্টি মাঠে অনুশীলনের পর সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, ‘অফ স্পিনারদের দিয়ে এর আগেও অনেকবার আমরা তাদের বিপক্ষে বেশ সাফল্য পেয়েছি। আর সাম্প্রতিক সময়ে মেহেদী (হাসান মিরাজ) তাদের বিপক্ষে দারুণ বল করেছে। এই বিশ্বকাপেও সে ভালো বল করছে। এমনকি ডানহাতিদের বিপক্ষেও।’
ক্রিস গেইলসহ আজকের উইন্ডিজ একাদশে থাকতে পারেন অন্তত চার বাঁহাতি জেনুইন ব্যাটসম্যান। অফ স্পিনারদের ইতিহাস বাঁহাতিদের বিপক্ষে সবসময় ভালো। ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যান বাঁহাতি। মেহেদী তাদের বিপক্ষে দারুণ বল করে। সুতরাং এটা আমাদের জন্য একটা ইতিবাচক দিক।’ এই মাঠ ছোট। ক্যারিবিয়ানরা খুব পাওয়ার হিটার। পেস বোলারদের বল অনেক সময় ব্যাটের কানায় লেগেও এমন মাঠে চার-ছক্কায় পরিণত হয়। মাঠের প্রসঙ্গ টেনে সেখানে স্পিনারকে যোগ করেন মাশরাফী, ‘এই ছোট মাঠের ক্ষেত্রেই তাই বলব। এ নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনেক শক্তি।’
গেইল ও আন্দ্রে রাসেল বিশ্বকাপ দলে যোগ হওয়ায় ক্যারিবিয়ানরা বড় দলের দাবিদার। প্রথম ম্যাচে দারুণ জয়ের পর পয়েন্ট হারিয়ে চার ম্যাচে এখন বাংলাদেশের মতোই ৩ পয়েন্ট তাদের। তাই সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা ভালোভাবে ধরে রাখতে জিততেই হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে পরিসংখ্যানে। শেষ তিন সিরিজের জয়ী দলের নাম বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে সিরিজ জিতেছে। জিতেছে বাংলাদেশেও। গেল মাসে আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ উড়ো প্রেরণা জাগানো। টানা তিন ম্যাচে হারিয়েছে। যদিও গেইল-রাসেলরা ছিলেন না। শেষ ম্যাচটি ছিল ফাইনাল। প্রথম বহুজাতিক কোনো সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ।নিজেরা আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু প্রতিপক্ষকে খাটো করে দেখার মতো বোকামি করার মানুষ নন মাশরাফী। দুই ধারী তরবারি মানেন ক্যারিবিয়ানদের। ‘ওরা খুব শক্তভাবে ফিরে আসে। তাদের খেলা সবসময় ইতিবাচক। তারা খুব শট খেলে। এটা অবশ্য কখনো ভালো, কখনো খারাপ। দুদিক দিয়েই। আমাদের বোলিং গেল দুই-তিন সিরিজে তাদের বিপক্ষে দারুণ করে দেখিয়েছে। তাই তাদের ওই ধরনকেও আমরা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি।’
এর সঙ্গে মাশরাফীর একটা ডাক আছে। সেটা নিজেদের জন্য। তাদের তো সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন। ‘নিজেদের দিকে জোর দিতে হবে আমাদের।’ মাশরাফীর উচ্চারণ, ‘তাদের বিপক্ষে আগেও সফল আমরা। ওটা আবার ভাবতে হবে। আর মাঠ কিংবা উইকেট যেমনই হোক না কেন, আমাদের কাজে লাগাতে হবে নিজেদের শক্তিটাকে।’
