এএফসি কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ে ‘ই’ গ্রুপের শীর্ষে ওঠা উদযাপন করল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড। গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ৫-০ ব্যবধানে নেপালের মানাং মার্সিয়াংদিকে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। একপেশে জয়ে পাঁচ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ফিরেছে তারা। কাল গৌহাটিতে গ্রুপের অন্য ম্যাচে ভারতের চেন্নাইন এফসি ১-১ গোলে ড্র করেছে স্বদেশি মিনারভা পাঞ্জাবের সঙ্গে। সুবাদে পাঁচ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট পাওয়া চেন্নাইন হারিয়েছে গ্রুপের শীর্ষস্থান। এই জয়েও নিঃসংশয় হতে পারছে না আকাশি জার্সিধারীরা। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে পরের ধাপে যেতে ২৬ জুন গৌহাটিতে পাঞ্জাবের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্যেই নামতে হচ্ছে আবাহনীকে। নয়তো তাদের ভাগ্য নির্ভর করবে সেদিনই নেপালের কাঠমান্ডুতে স্বাগতিক মার্সিয়াংদি এবং চেন্নাইন এফসি ম্যাচের ওপর। আবাহনী যদি হেরে যায় কিংবা ড্র করে, আর চেন্নাইন জিতে গেলে হেড-টু-হেড সমীকরণে পরের ধাপে চলে যাবে চেন্নাইন। তিন দিন আগে রহমতগঞ্জের জালে গোলোৎসব করা আবাহনী যেন কাল শুরু করেছিল ঠিক সেখান থেকেই। গরমে নাকাল হিমালয়ের দেশের প্রতিপক্ষের রক্ষণে রীতিমতো সুনামি বইয়ে দেয় আকাশিরা। প্রথমার্ধে ২-০-তে এগিয়ে যাওয়ার পর শেষ অর্ধে আরও তিন গোল করে তারা। শুরুটা স্থানীয় ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবনকে দিয়ে ম্যাচের ১১তম মিনিটে। মার্সিয়াংদির মালদ্বীপের ডিফেন্ডার শহিদ আজিজ সতীর্থের ব্যাকপাস নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগেই নাইজেরিয়ান
স্ট্রাইকার সানডে চিজোবা প্রেস করলেও বল কেড়ে নিতে পারেননি। সামনে থাকা জীবন তা কেড়ে নিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে প্লেস করে আসরে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান। ২১ মিনিটে অবশ্য আবাহনী গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেলের গ্লাভস ফসকালে সমতায় ফিরতে পারত মার্সিয়াংদি। তবে এই গোলকিপারই শেষ পর্যন্ত সুজন শ্রেষ্ঠার দূরপাল্লার শটটা আয়ত্তে নেন জালে জড়ানোর আগে। ৪৩ মিনিটে সানডে সহজ সুযোগ নষ্ট করার পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে একক প্রচেষ্টায় দুর্দান্ত এক গোলে ব্যবধান বাড়ান হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড কারভেন্স বেলফোর্ট। নিজেদের অর্ধে সোহেল রানার কাছ থেকে বল পেয়ে একাই বল নিয়ে ছুটতে থাকেন মার্সিয়াংদির বক্সে। গায়ে গায়ে লেগে থাকা মার্কার দেবেন্দ্র তামাংকে গতিতে পরাস্ত করে বক্সে ঢুকে আগুয়ান নেপাল গোলকিপারের পাশ দিয়ে বল পাঠিয়ে দেন জালে। দ্বিতীয়ার্ধের ৬১ মিনিটে সানডে আরেকবার হতাশ করার ২ মিনিট পর সোহেল রানার কাটব্যাকে বাঁ পায়ের প্লেসিংয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন জুয়েল রানা। ৭০ মিনিটে বাঁদিক থেকে বেলফোর্টের ক্রসে সানডে চিজোবার হেড ক্রসবারে লেগে বাইরে যায়। ৭৫ মিনিটে অবশ্য কাক্সিক্ষত গোলের দেখা পান দাপুটে মৌসুম কাটানো সানডে। জীবনের পাস ধরে সানডে ছোট বক্সের বামপ্রান্ত থেকে কোনাকুনি শট নিলে তা মার্সিয়াংদি গোলকিপার বিশাল শ্রেষ্ঠার পা গলে জালে জড়ায়। আর ম্যাচের যোগ করা সময়ে সানডের ব্যাক পাস ধরে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে দুর্দান্ত গোলে আবাহনীকে বড় জয়ের আনন্দে ভাসান বর্ষীয়ান মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম
×
