পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে সংঘর্ষ চীনা নাগরিক নিহত

আপডেট : ২০ জুন ২০১৯, ০২:৪৪ এএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাংলাদেশি এক শ্রমিকের মৃত্যুর পর তার লাশ গুম করার গুজবের জেরে বাঙালি ও চীনা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক চীনা নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে ওই সংঘর্ষের পর গতকাল বুধবার ভোরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ওই চীনা শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তার নাম ঝাং ইয়াং ফাং (২৬)। তিনি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে ইলেকট্রেশিয়ান পদে কর্মরত ছিলেন। একই ঘটনায় পাঁচ চীনা শ্রমিকসহ আহত হয়েছেন আরও সাত শ্রমিক।

কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, গত মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণাধীন বয়লারের ওপর থেকে পড়ে গিয়ে সাবিন্দ্র দাস নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এর জেরে বিকেলে চীনা ও বাঙালি শ্রমিকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহত আটজনকে পাঠানো হয় শেবাচিম হাসপাতালে।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক বাকির হোসেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছয় চীনা নাগরিক এবং দুই বাংলাদেশি শ্রমিককে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ঝাং ইয়াং ফাংয়ের দ্রুত সিটি স্ক্যান করা হলে তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টার দিকে তিনি মারা যান। বাকি পাঁচ চীনা নাগরিককে আজ (গতকাল) সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’

পুলিশ পরিদর্শক আসাদুর রহমান জানান, বয়লারের ওপর থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বাংলাদেশি শ্রমিক সাবিন্দ্র দাস (৩২)। তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জয়নগর গ্রামের নগেন্দ্র দাসের ছেলে। এক চীনা কর্মী সাবিন্দ্রকে লাথি দিয়ে নিচে ফেলে দিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠলে বাঙালি শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে চীনা কর্মীরা দাবি করেন, অসাবধানতায় নিচে পড়ে গিয়েছিলেন সাবিন্দ্র। এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে সাবিন্দ্রর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বাঙালি শ্রমিকরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। সাবিন্দ্রর মৃত্যু নিয়ে দিনভর উত্তেজনার পর বিকেলে বাঙালি শ্রমিকদের সঙ্গে চীনা শ্রমিকদের সংঘর্ষ বেধে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে তিন পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। এ সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়।

গতকাল বিকেলে পরিদর্শক আসাদুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

এদিকে সংঘর্ষ ও শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনার খবর পেয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গতকাল দুপুরে হেলিকপ্টারে করে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আসেন। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর বাঙালি ও চীনা শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তিনি উভয়পক্ষের দাবি শুনে এগুলো বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং শ্রমিকদের কাজে ফিরে যেতে বলেন। পরে বিকেলে শ্রমিকরা কাজে ফিরে যায়।

এছাড়া শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্র্তৃপক্ষ, স্থানীয় জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের পক্ষ থেকে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হাফিজকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে এই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত