সময়কাল মাত্র দুই বছর। ২০১৭ সালে এই ইংল্যান্ডের মাটি থেকেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে যখন দেশে ফিরলেন, তখন তাকে মাথায় তুলে নেচেছিল পাকিস্তানি ভক্তরা। একেবারে হিসাবের বাইরে থেকে বৈশ্বিক ওই আসরের শিরোপা জিতিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় বীরে রূপ নিয়েছিলেন সরফরাজ আহমেদ।
অথচ দুই বছর যেতে না যেতেই মুদ্রার উল্টোপিঠ দেখতে শুরু করেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। এর মধ্যেই জুটেছে ‘মগজহীন অধিনায়ক’ উপাধি। বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচে একটিমাত্র জয়ে তার নেতৃত্ব হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ। শুধু তাই নয়, মাঠে তার উপস্থিতি, শরীরী ভাষা ঠিক নেতাসুলভ নয়। তাই তো তাকে বিদ্ধ হতে হচ্ছে হাজারো সমালোচনার তীরে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে বড় হারের পর থেকেই সাবেক ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সমর্থকরা কড়া সমালোচনায় ব্যস্ত পাকিস্তান দলের। এ থেকে বাঁচতে তাদের পরের চারটি ম্যাচই জেতা চাই। তাতে সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা দাঁড়াবে।
বিশ্বকাপে বরাবরই ভারতের কাছে হেরেছে পাকিস্তান। সেই রেকর্ডটা আরও বড় হলো সর্বশেষ ৮৯ রানের বড় হারে। সেই হারে গোটা দলের চেয়ে সরফরাজকেই দায় দেওয়া হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। পাকিস্তানের সমালোচনায় সবচেয়ে বেশি সরব সাবেক দুই তারকা রমিজ রাজা ও শোয়েব আখতার। রমিজ রাজা বলেন, ‘পাকিস্তান এটা কোনো খেলাই খেলেনি। ভারত তাদের কোনো সুযোগই দেয়নি। এক কথায় এটা একটা থার্ড ক্লাস পারফরম্যান্স।’ শোয়েব আখতার শুরু থেকেই সরফরাজের ফিটনেস এবং ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে সরব ছিলেন। ভারতের কাছে হারের পর তিনি বলেন, ‘এরকম বুদ্ধিহীন অধিনায়কত্ব কী করে করল সে (সরফরাজ)? বুদ্ধিহীন অধিনায়কত্বের সঙ্গে মগজহীন ম্যানেজমেন্ট যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে এই দলের কোনোই পরিকল্পনা নেই।’
ভারতের বিপক্ষে একাদশ বাছাই নিয়েও হচ্ছে সমালোচনা। ভারতের ব্যাটসম্যানদের স্পিন খেলতে জুড়ি নেই। অথচ সেই ম্যাচে দুজন স্পেশালিস্ট স্পিনার খেলানো হয়েছে। তাছাড়া টসের সিদ্ধান্ত নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। উইকেটের আচরণ দেখে খোদ পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী এবং ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ইমরান খান সরফরাজকে পরামর্শ দিয়েছিলেন টস জিতলে ব্যাটিং নিতে। কিন্তু সরফরাজ টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান। তাছাড়া ভারতের ইনিংসের সময় তাকে বারবার হাই তুলতে দেখেও ঝড় উঠেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
বিষম চাপে রয়েছেন সরফরাজ ও তার দল। ৩ পয়েন্ট নিয়ে ১০ দলের আসরে তাদের অবস্থান ৯-এ। তিনি কি পারবেন সব চাপ পেছনে ফেলে সামনের চারটি ম্যাচে দলকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে? সেটাই দেখার অপেক্ষা। পাকিস্তান তাদের ষষ্ঠ ম্যাচ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৩ জুন। সেটা না হলে দুই বছর আগের মতো বীরোচিত সংবর্ধনা নয়, পাকিস্তান দলের দেশে ফেরাটা হবে লজ্জাজনক।
