তুরিনের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ মা-ভাইয়ের

আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ০২:৩৯ এএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ক্ষমতার দাপটে প্রশাসনকে ব্যবহার করে সম্পত্তি আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার মা সামসুন নাহার তসলিম ও ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির। তুরিনের হুমকি ও হয়রানিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে আইন, সংবিধান ও মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তারা। তবে তুরিন আফরোজ এসব অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ বলেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তুরিনের মা ও ভাই দাবি করেন, রাজধানীর উত্তরায় তিন নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কের বাড়ির মালিকানা তাদের। এর সপক্ষে নথি উপস্থাপন করে তারা ওই বাড়ি ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। প্রসিকিউটরের ভাই শাহনেওয়াজ শিশির বলেন, ‘ক্ষমতার দাপটে তুরিন আফরোজ আমাকে ও আমার বিধবা মাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানি করছেন। এর কারণ আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি কুক্ষিগত করা। চক্ষু লজ্জার কারণে এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিলাম এই কারণে যে, আমরা ক্ষমতাসীন কাউকে অবমাননা করতে চাইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিদেশে অবস্থান করেও বাংলাদেশে প্রদেয় সকল কর বা রাজস্ব আমি বাংলাদেশ সরকারের খাজানায় দিতে কখনো কালক্ষেপণ করিনি। রাজউক কর্র্তৃক নামজারিকৃত আমার বাসা থেকে আমাকে ও আমার মাকে তাড়িয়ে দেওয়া সত্ত্বেও অদ্যাবধি সিটি করপোরেশন এবং ভূমি উন্নয়ন হালনাগাদ কর নিয়মিত পরিশোধ করছি।’

তিনি বলেন, ‘তুরিন আফরোজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে আমার অনুপস্থিতিতে নিজ স্বার্থে কাজে লাগিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ক্ষমতার দাপটে প্রশাসনকে সংবিধানবহির্ভূত কাজে বাধ্য করিয়ে আমাকে ও আমার মাকে ক্ষতি করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।’

শাহনেওয়াজ শিশির অভিযোগ করেন, শুধু ঢাকাতেই নয়; নীলফামারীর জলঢাকায় তাদের চাচা, চাচাতো ভাই ও বোনদের জমিসংক্রান্ত মামলায় জিম্মি করে রেখেছেন তুরিন। ক্ষমতার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদেরও হেনস্তা করছেন তিনি। তিনি আরও জানান, গত ১৪ জুন কানাডা থেকে ফিরে উত্তরায় তার বাসায় মাসহ প্রবেশ করতে চাইলে তুরিন আফরোজ সরকারপ্রদত্ত তার বাহিনী দিয়ে বাসায় প্রবেশ ও অবস্থান করতে নিষেধ করার পাশাপাশি তাদের হেনস্তা করেন। এরপর নিরাপত্তার কথা ভেবে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি বলেন, ‘তুরিন আফরোজ আমাদের গৃহপ্রবেশকে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে মিডিয়ায় প্রচার করার পাশাপাশি সত্য ঘটনাকে আড়াল করে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে দেশবাসীর কাছে নিরাপত্তা চান।’

তুরিন আফরোজের মা সামসুন নাহার তসলিম বলেন, ‘আমার কিডনির ৬০ শতাংশ অকেজো। চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর বাড়ির ভাড়ায় সংসার ও চিকিৎসা খরচ চলত। এমন অবস্থায় বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসার টাকাও নিয়ে গেছে তুরিন।’ তিনি আরও বলেন, ‘টাকা চাইতে গেলে ডিজিএফআই, র‌্যাবের ভয় দেখায় তুরিন। ৫৭ ধারায় মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়।’ বাড়ি ফিরে পেতে ও সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সামসুন নাহার তসলিম।

জানতে চাইলে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘তারা আমার পরিবারের সদস্য। তারা আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে যা বলেছেন, সেগুলো দুঃখ, কষ্ট ও অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে বলেছেন। আর যেখানে মা রয়েছেন, সেখানে তাদের বিরুদ্ধে আমি কোনো বিরূপ মন্তব্য করতে চাই না। তারা যে নোংরা কথা বলেছেন, এগুলোর উত্তর দিতে চাই না আমি।’

তিনি বলেন, ‘তাদের অভিযোগ হাস্যকর। নিজের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে আমি কী পাব? এটি একটি সাধারণ বাড়ি। একটা ফ্ল্যাটে আমি থাকি। এখানে আমারও মালিকানা রয়েছে। এর সপক্ষে কাগজপত্র রয়েছে। এ নিয়ে ২০১৭ সাল থেকে মামলা চলমান। এটি এখন সাবজুডিস (বিচারাধীন) বিষয়। আদালতের আদেশ রয়েছে এখানে স্ট্যাটাস ক্যু (স্থিতাবস্থা) থাকবে। তাই এ নিয়ে একটি কথাও বলতে চাই না। করলে সেটি আদালত অবমাননা হবে।’

তুরিন আফরোজ বলেন, ‘তারা মামলাও করছেন, আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছেন এটা আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়েছে। যেখানে আদালত রায় দেবে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে হস্তক্ষেপ করবেন? যতদূর জানি প্রধানমন্ত্রী কখনো আদালতের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন না। আদালত যে রায় দেবে সেটি আমরা মানতে বাধ্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত