রাখাইনে সংঘটিত রোহিঙ্গা নিপীড়ন তদন্তের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের ‘শরণার্থী’ শিবির পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে মিয়ানমারের একটি তদন্ত দল। দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’র উদ্যোগে গঠিত ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশন অব ইনকোয়ারি-আইসিওই নামের ওই কমিটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কাছে শিবির পরিদর্শনের অনুমতি চেয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনো এতে সাড়া দেয়নি।
গতকাল শনিবার সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম সিএনএ এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে আইসিওই-এর মুখপাত্র বলেছেন, ‘অনুসন্ধানের মাধ্যমে যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে ব্যাপক তদন্ত কাজ চালানো দরকার। তবে কক্সবাজার পরিদর্শন করতে আইসিওই-এর অনুরোধে সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ। এতে যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কক্সবাজারে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ও আইসিওই-এর তদন্তকারীদের বঞ্চিত করেছে। সব মিলে বাংলাদেশের ভূমিকা জবাবদিহি নিশ্চিতে মিয়ানমারের জাতীয় তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য হতাশাব্যঞ্জক বাস্তবতা সৃষ্টি করেছে।’
আইসিওই বলছে, ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে মোমেনকে চিঠি দেন রোসারিও মানালাও। সর্বশেষ গত ২৮ মে আইসিওই-এর চেয়ারপারসন মানালাও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিস্তারিত প্রয়োজনের কথা জানিয়ে আবারও চিঠি দেন। মিয়ানমারের কমিশন বলছে, তাদের লক্ষ্য হলো কক্সবাজারে বসবাসরত প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য রেকর্ড, প্রমাণ ও তথ্য সংগ্রহ।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে পালিয়ে আসে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। রাখাইনে সেনা অভিযানে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে গত বছর জুলাইয়ে জাতীয় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে মিয়ানমার। এর আওতায় গঠন করা হয় স্বাধীন অনুসন্ধান কমিশন- আইসিওই। ফিলিপাইনের কূটনীতিক রোসারিও মানালাওকে প্রধান করে গঠিত এই কমিশনের কাজ শেষ করতে এক বছর সময় দেওয়া হয়।
এদিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারের সঙ্গে ২০১৭ সালের নভেম্বরে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই চুক্তির আওতায় একজন রোহিঙ্গাও বাংলাদেশ থেকে ফেরত যায়নি। বাংলাদেশের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও একই ধরনের মত দিয়েছে।
