অ্যারন ফিঞ্চের সেঞ্চুরির পর বল হাতে আগুন ঝরালেন জেসন বেহরেনডোর্ফ ও মিচেল স্টার্ক। এই তিনে ভর করে লর্ডসে ইংল্যান্ডকে একরকম গুঁড়িয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে নিশ্চিত করল সেমিফাইনাল।
মঙ্গলবার স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৬৪ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। টস হেরে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৮৫ রানের পুঁজি পায় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ইংল্যান্ড ২২১ রানেই থেমেছে।
বিশ্বকাপেরে মঞ্চে ১৯৯২ সালের পর আর ইংল্যান্ডের কাছে হারেনি অস্ট্রেলিয়া। ২০০৩, ২০০৭ ও ২০১৫ এই তিন আসরেই তুলে নিয়েছিল জয়। এবারো সেই ধারা ধরে রাখল অজিরা। ইংল্যান্ডের হারে অবশ্য খুশি হবে বাংলাদেশের দর্শকেরা। ৭ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট তাদের। বাকি দুই ম্যাচের একটিতে হারলেও সেমিফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারে ইয়ন মরগানের দলের। ৭ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিত করল সেমিফাইনাল।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে ইংল্যান্ড। জেসন বেহরেনডোর্ফ শুরুতে আঘাত হানলেন। জেমস ভিনসকে (০) ফেরালেন ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই।
এরপর জোড়া উইকেট তুলে নিলেন মিচেল স্টার্ক। একে একে সাজঘরে ফিরতে হলো জো রুট (৮) ও ইয়ন মরগানকে (৪)। তাতে ২৬ রানে ৩ উইকেট হারায় ইংলিশরা। এরপর ফের আঘাত হানেন বেহরেনডোর্ফ। দলীয় ৫৩ রানে জনি বেয়ারস্টোকে (২৭) ফিরিয়ে দেন।
জস বাটলারকে নিয়ে বেন স্টোকস ৭১ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার আভাস দিচ্ছিলেন। ২৫ রান করা বাটলারকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভেঙেছেন মার্কাস স্টয়নিস। তাতে ১২৪ রানে ৫ উইকেট পড়ে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের।
স্টোকস তখন দারুণ ছন্দে ব্যাট করছেন। এ কারণেই ইংলিশদের আশা ছিল তখনো। কিন্তু দলীয় ১৭৭ রানে ফিরতে হয় স্টোকসকেও। স্টার্কের দুর্দান্ত বলে বোল্ড হন তিনি। ১১৫ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ৮৯ রানের ইনিংসের মৃত্যু তাতে।
একই সঙ্গে এ ম্যাচে ইংল্যান্ডের স্বপ্নেরও মৃত্যু হয়। বেহরেনডোর্ফ আরো তিন উইকেট তুলে নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট পূরণ করেন। স্টার্ক আরো এক উইকেট নিয়ে ৪ উইকেট পূরণ করেছেন।
এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৮৫ রান করে অস্ট্রেলিয়া। আসরে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া অ্যারন ফিঞ্চ ঠিক ১০০ রান করেন। ওয়ার্নার খেলেছেন ৫৩ রানের ইনিংস। এ ছাড়া স্টিভ স্মিথ ৩৮ ও অ্যালেক্স ক্যারি অপরাজিত ৩৮ রান করেন।
ইংলিশদের পক্ষে সর্বাধিক ২ উইকেট নিয়েছেন ক্রিস উকস। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন জফরা আর্চার, মার্ক উড, বেন স্টোকস ও মইন আলি।
