নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে স্মরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে স্মৃতিপদক প্রদান, স্মারক বক্তৃতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা বলেন, ‘যেকোনো সংকটে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আমাদের সাহস জোগাতেন জাহানার ইমাম। এখনো তার আদর্শ আমাদের প্রেরণা।’ এ বছর জাহানারা ইমাম স্মৃতিপদক পেয়েছেন নাট্যকার রামেন্দু মজুমদার ও গবেষণা সংস্থা রিজিওনাল এন্টি টেররিস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘বাঙালি সংস্কৃতির নির্যাসÑ অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিকতা’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা দেন রামেন্দু মজুমদার। তিনি বলেন, বাঙালি সংস্কৃতিতে ‘আমি’ বিলীন হয়েছে ‘আমরা’র মধ্যে। শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংগীত, উৎসব উদযাপন, প্রতিবাদ সবকিছুতেই ‘আমরা’। আমরা সবাই মিলে নববর্ষের উৎসবে মিলিত হই, আবার সবাই মিলে প্রতিবাদে গর্জে উঠি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমাদের সামনে এসে দাঁড়ান একজন বঙ্গবন্ধু, একজন সুফিয়া কামাল বা একজন জাহানারা ইমাম।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ‘বাঙালির ইতিহাসে জাহানারা ইমাম এক শ্রদ্ধেয় নাম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যে আন্দোলন, সেখানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই মহীয়সী নারী। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে আমাদেরকে সাহস জোগান।’
শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও চিত্রশিল্পী হাশেম খান, রিজিওনাল এন্টি টেররিস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ারের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। সূচনা বক্তব্য দেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
মুক্তিযোদ্ধা শাফি ইমাম রুমীর মা, সাহিত্যিক ও সংগঠক জাহানারা ইমাম দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন মারা যান।
