রোহিঙ্গা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

মিয়ানমারকে মদদ দিচ্ছে না চীন

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৯, ১২:৪৭ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, চীন মিয়ানমারকে মদদ দিচ্ছে না; বরং তারা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি অথবা সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করছে। চীন চায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের আলোচনার মধ্য দিয়ে এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান আসুক। মন্ত্রী বলেন, চীনও চায় রোহিঙ্গারা ফিরে যাক। মিয়ানমারও বলছে, তারা ফিরিয়ে নেবে। বাংলাদেশও চায় এই বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের নিজভূমে ফিরে যাক।

প্রধানমন্ত্রীর ৫ দিনের চীন সফর উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামী ১ জুলাই ৫ দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী চীন যাচ্ছেন।

এ কে মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ৮টি চুক্তি সই হবে। চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্কের আলোকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। শেখ হাসিনা চীনের 

 ডালিয়ানে ২ জুলাই অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন সভায় অংশগ্রহণ করবেন। ৪ জুলাই চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চেচিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং ৫ জুলাই চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান লি ঝ্যাংসুর সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক রয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা বিষয়ে চীনের ভেটোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’ চীনকে কী বার্তা দেবে বাংলাদেশ, জানতে চাইলে আবদুল মোমেন বলেন, ‘আমরা বলব এরা (রোহিঙ্গারা) মিয়ানমারের লোক এবং এই বিরাট জনগোষ্ঠী এখানে যদি অনেক দিন থাকে, তবে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হবে এবং গোটা অঞ্চলের উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে।’

বিগত দিনে যারা বিরোধিতা করেছিল, তারা অনেকে পক্ষে চলে এসেছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন বা রাশিয়া এখন আমাদের পক্ষে জোরালো কথা বলছে। এমনকি ভারতও।’

চীন থেকে বেশি ঋণ নিয়ে বাংলাদেশ ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের স্বার্থ রক্ষা করে কাজ করি। আমরা ঋণের ফাঁদের বিষয়ে অবগত আছি এবং ওই ফাঁদে যাতে আমাদের না পড়তে হয়, সে বিষয়ে আমরা অত্যন্ত সজাগ। চীনের ঋণ আমরা সেই বিবেচনায় নিচ্ছি। উপকার হবে না এমন কোনো ঋণ কেউ আমাদের জোর করে দিতে পারে না।’

বিআরআইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের স্বার্থে কাজ করি এবং ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করি। সবার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই। আমরা বেল্ট অ্যান্ড রোডে প্রথমেই যোগ দিয়েছি। এতে আমাদের কোনো অসুবিধা হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত