নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় যৌতুকের জন্য স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ভাসুর ও জা’র বিরুদ্ধে কলি বেগম (২৪) নামে এক গৃহবধূকে হাত-পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের বেলতলী চরপাড়া গ্রামে। শনিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূকে হাত-পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে রাখা হয়। কৌশলে কলি তার মা’র কাছে সিলেটে খবর পাঠায়।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সিধলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য আইনিভাবে পুলিশের সহযোগিতা চান।
পরে পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বেলতলী চরপাড়া গ্রামে কলি বেগমের শ্বশুর বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূকে হাত পায়ে শিকল বাঁধাসহ অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নির্যাতিতা নিজে বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের মো. আব্দুল হামিদের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে (২৮) সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানা তেলিপাড়ার মো. খায়রুল আলমের মেয়ে কলি বেগমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সিলেটে তারা সংসার শুরু করেন। তাদের সংসারে জান্নাতুল ফেরদৌস মাহিয়া নামে ১৭ মাসের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য প্রায়ই স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। বৃহস্পতিবার ৫০ হাজার টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য দাবি করলে এতে অস্বীকৃতি জানান কলি। পরে তাকে স্বামীসহ অন্যরা হাত পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে রাখে। কৌশলে কলি তার মাকে সিলেটে খবর পাঠাতে সক্ষম হন।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ওসি মো. মাজহারুল করিম জানান, ভিকটিমের লিখিত অভিযোগের পেয়ে শনিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ভাসুর ও জাসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়ধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
