সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন হত্যার যথাযথ বিচার দাবিতে দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
মানববন্ধনে ফাগুন হত্যার বিচার চেয়ে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘এটা শুধু পিতামাতার বেদনা নয়, তাদের ভার নয়। আমরা যারা আত্মীয়, আমরা যারা স্বজন, আমরা যারা বন্ধু, আমরা যারা সাধারণ নাগরিক, আমি মনে করি এ ধরনের মৃত্যু, এ ধরনের নিঃশব্দ পরিস্থিতি সবার জন্য বেদনাদায়ক।’
শনিবার বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন হয়।
২১ মে ঢাকা থেকে শেরপুরে বাড়িতে ফেরার সময় নিখোঁজ হন ফাগুন। পরদিন জামালপুর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ফাগুন হত্যার এক মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ হত্যা রহস্যের কোনো সমাধান করতে পারেনি পুলিশ।
শনিবার মানববন্ধনে ফাগুনের বাবা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কাকন রেজা বলেন, ‘আজকের মানববন্ধনে পিতা হিসেবে একটা পুত্রের জন্য বিচার চাইতে এখানে আমি আসিনি মূলত। এখানে আমি এসেছি শুধু ফাগুনের জন্য নয়, আমি এসেছি যে অন্যান্য ফাগুন যারা আছে। এক ফাগুন চলে গেছে, আমার ফাগুন চলে গেছে। এখন অন্যান্য যারা আছে, তার বয়সী যারা আছে, তারা যেন চলে না যায়।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাকন রেজা আরো বলেন, কেন ফাগুনকে হত্যা করা হলো, কী তার অপরাধ ছিল তা অন্তত জানতে চান তিনি।
জানা গেছে, ফাগুন তেজগাঁও কলেজের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি একটি অনলাইনে যোগদানের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন। পরীক্ষা শেষে ছুটি থাকায় তিনি শেরপুরে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ২১ মে আরেকটি অনলাইনে যোগদানের বিষয় চূড়ান্ত করতে ঢাকায় আসেন। কাজ শেষে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন।
পরে জানা যায় জামালপুরে এক তরুণের মরদেহ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে সেটিই ফাগুনের মরদেহ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
স্থানীয় রেল পুলিশ জানায়, ২১ মে মঙ্গলবার রাতে খবর পেয়ে রাত পৌনে ১টার দিকে ফাগুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় জামালপুর রেলওয়ে থানায় ফাগুনের বাবা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
