কেমন হলো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৯, ১১:৩২ পিএম

বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে গত ২০-২৬ জুন রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব’। ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, নেপাল ও স্বাগতিক বাংলাদেশের নাটক মঞ্চায়িত হয় উৎসবে। স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সরাসরি নাট্যোৎসবের আয়োজন করল। এই আয়োজনে দর্শককে মুগ্ধ করেছে ভারতের রতন থিয়ামের নির্দেশনায় কোরাস রেপার্টরির ‘ম্যাকবেথ’ নাটকটি। গত ২১ জুন উৎসবের দ্বিতীয় সন্ধ্যায় মঞ্চায়িত হয় এ নাটকটি।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘রতন থিয়াম শুধু ভারত নয়, বিশ^ব্যাপী ছড়িয়েছেন তার পরিচিতি। ঢাকায় বসে তার নাটক দেখা নিঃসন্দেহে আমাদের নাট্যকর্মীদের জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা।’

উৎসবে ভারত, রাশিয়ার নাটক মুগ্ধ করলেও চীন, ফ্রান্স ও নেপালের নাটক খুব বেশি দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারেনি। জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী শাহনাজ জাহান বলেন, ‘ম্যাকবেথ’ নাটকটা ভাষাগত কারণে বুঝতে সমস্যা হয়েছে। তবে ভীষণ ভালো লেগেছে। এ ছাড়া শেষ দিন রাশিয়ার লাইট এন্ড পাপেট শো ভালো লেগেছে। তবে চীন আর ফ্রান্সের নাটক খুব একটা ভালো লাগেনি।’

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এমন উদ্যোগ সারা দেশে নিয়মিতভাবেই অনুষ্ঠিত হবে বলেও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন একাধিক নাট্যশিল্পী। আরণ্যক নাট্যদলের সদস্য অপু মেহেদী বলেন, ‘সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সারা দেশে এমন আয়োজন হওয়া উচিত। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এমন নাট্যোৎসবের আয়োজক হতে পারে। সেখানে দেশের ভালো নাটকগুলোর পাশাপাশি বিদেশি নাটক দেখার সুযোগ তৈরি হোক।’

উৎসবে অংশ নিতে এসে নিজেদের মুগ্ধতার কথাও জানিয়েছেন বিদেশি নাট্যশিল্পীরা। ভিয়েতনামের নাট্যনির্দেশক ডক্টর সুয়া সু পং  দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই নাট্যোৎসবের অংশ হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত এবং গর্ববোধ করছি। এটা বাংলাদেশে আমার ১৫তম বারের মতো আসা। আমি প্রথম বাংলাদেশে আসি ১৯৯১ সালে একটি থিয়েটার ফেস্টিভালে অংশ নিতে।

ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সাম্মানিক সভাপতি রামেন্দু মজুমদার বলেন, এই উৎসবের মধ্য দিয়ে অনেক নতুন দর্শকও নাটক দেখেছেন। তারা আমাদেরকে ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে এমন উৎসব সারা দেশে যেন আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, শিল্পকলা একাডেমি কার্যক্রমকে আরও জোরদার যেন করা হয়।’

উৎসব প্রসঙ্গে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, গেল অর্থবছরের শেষদিকে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবের প্রস্তাব পাই। কিন্তু তখন আর অনুদান দেওয়ার মতো কোনো বরাদ্দ ছিল না। যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, সেটা খরচের এখতিয়ার শুধু সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ছিল। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই নিজেরাই আয়োজন করব। এমন ঘটনা এবারই প্রথম ঘটেছে। এখন থেকে এক বছর অন্তর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবের আয়োজন করতে চাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত