জা‌জিরায় কলেজছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৯, ০২:২৮ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে (১৬) দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শরীয়তপুরের আন্তঃজেলা পরিবহনের চারজন শ্রমিকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগে মামলা হ‌য়ে‌ছে।

সদর উপজেলার উত্তর মধ্যপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে রোববার রাতে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়।

এলাকাবাসী ওই ছাত্রীকে শরীয়তপুর বনবিভাগের পুকুরঘাট থেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়।

ধর্ষণের অভিযোগে একটি বাসের চালক রাকিব মন্ডলকে (২২) আটক করেছে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার পুলিশ। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হ‌য়ে মঙ্গলবার রাতে পালং মডেল থানায় এক‌টি মামলা ক‌রে‌ছে।

পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জাজিরা উপজেলা সদরের একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর বাড়ি ছিল নড়িয়া উপজেলায়। গত বছর নদী ভাঙনে গৃহহীন হয়ে জাজিরার একটি গ্রামে আশ্রয় নেয় তার পরিবার।

ওই ছাত্রী রোববার বিকেলে তার এক আত্মীয়র বাড়ি যাওয়ার জন্য শরীয়তপুর জেলা শহরের বাস টার্মিনালে আসেন। তখন সেখানে দেখা হয় পূর্ব পরিচিত পরিবহন শ্রমিক ইসলাম ফ‌কির নামে এক যুবকের সাথে। ইসলাম ওই ছাত্রীকে তার আত্মীয়র বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তার বন্ধু রাকিব মন্ডল, সবুজ রাড়ী (২২) ও ইকবালের সঙ্গে অটোরিকশায় তুলে দেয়। রাকিব, সবুজ ও ইকবাল মেয়েটিকে নিয়ে মনোহর বাজারে যান। সেখানে কিছু খাওয়া দাওয়ার পর মেয়েটিকে রাকিবের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে মেয়েটির মুখ বেঁধে রাকিব, সবুজ ও ইকবাল প্রথম দফায় ধর্ষণ করেন। এরপর সন্ধ্যায় ওই বাড়ি যায় ইসলাম। রাতে ইসলাম ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। পুনরায় ধর্ষণ করা নিয়ে ইসলামের সঙ্গে রাকিব, সবুজ ও ইকবাল কথা কাটাকাটি হয়। তখন ইসলাম মেয়েটিকে তাদের বাড়ির পাশের শরীয়তপুর বনবিভাগের পুকুর ঘাটে নিয়ে যায়। পুকুর ঘাটে নিয়েও মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। আসামিদের সবার বাড়ি শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর মধ্যপাড়া গ্রামে।

পরে স্থানীয় এক অটোরিকশা চালক তাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেলে ইসলাম মেয়েটিকে বিয়ে করবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে ওই অটোরিকশা চালক বিষয়টি পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের জানান।

মেয়েটিকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেন। পরিবহন শ্রমিকরা অপরাধীদের বিচার করবেন এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েটির পরিবারকে থানায় যেতে দেননি।

মঙ্গলবার শরীয়তপুর আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক চৌকিদার অভিযুক্ত রাকিব মন্ডলকে বাস টার্মিনালে দেখতে পেয়ে আটক করে পুলিশে তুলে দেয়। রা‌তে ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা পালং মডেল থানায় মামলা ক‌রেন।

ওই ছাত্রী বলেন, “ইসলাম, রাকিব ও সবুজ কয়েক দফায় আমাকে ধর্ষণ করেছে। এখন আমি কিভাবে সমাজে মুখ দেখাব? আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

পালং ম‌ডেল থানা হাজতে আটক রাকিব মন্ডল বলেন, “আমি ওই মেয়েটির সাথে কিছু করিনি। ইসলাম, সবুজ ও ইকবাল তাকে ধর্ষণ করেছে। তারাই ওই মেয়েটিকে আমার বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। ইসলাম, সবুজ ও ইকবাল কোথায় আছে তা আমি জানি না।”

শরীয়তপুর সদ‌রের পালং মডেল থানা পু‌লি‌শের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, “চারজন মিলে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করেছে এমন অভিযোগে এক শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। ভিকটিম মেয়ে‌টির বাবা চারজনকে আসামি ক‌রে মামলা ক‌রে‌ছে । মামলার বা‌কি আসামি‌দের গ্রেপ্তা‌রের ‌চেষ্টা চল‌ছে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত