যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে অভিবাসীদের বন্দিশালাগুলো ইতিপূর্বে বর্ণিত অবস্থার চেয়েও বেশি ঘিঞ্জি ও অতি নোংরা বলে জানিয়েছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার প্রকাশিত তাদের এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু বন্দিশালায় শুধু দাঁড়িয়ে থাকার মতো পরিস্থিতি রয়েছে। সেখানে গোসল ও গরম খাবার ছাড়াই অবস্থান করছে শিশুরা; মুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আর্তনাদ করছে বন্দিরা।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মহাপরিদর্শক (আইজি) কার্যালয়ের তথ্যগুলো এমন সময়ে প্রকাশিত হলো যখন মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা অভিবাসীদের আটক কেন্দ্রগুলো নিয়ে নিজেদের তথ্য-উপাত্তের বিশদ বিবরণ তৈরি করেছেন। হাউজের ডেমোক্র্যাটরা মার্কিন কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা সিবিপির কাছে অভিবাসীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও কংগ্রেস সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার বিষয়টিও জানতে চেয়েছেন।
এর আগে জুনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পরিদর্শকরা টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিও গ্রান্দে উপত্যকায় বন্দিদের পাঁচটি আবাসস্থল পরিদর্শন করেন। তারা দেখেন, শিশুদের গায়ে পরা পোশাকের বাইরে জামা-কাপড় নেই বললেই চলে। তাদের কাপড়চোপড় ধোয়ার কোনো ব্যবস্থাও নেই। নিজেদের পরিচ্ছন্ন করতে অনেক অভিবাসীকে শুধু ভেজা কাপড় দেওয়া হয়েছে। খাবার হিসেবে তাদের বলোগনা স্যান্ডউইচ সরবরাহ করা হয়। এর ফলে বন্দিশালায় অবস্থানকারীদের কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে বলে আইজি কার্যালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুটি বন্দিশালায় পরিদর্শকদের আগমনের আগ পর্যন্ত শিশুদের গরম খাবার পরিবেশন করা হয়নি। একেকটি কেন্দ্রে ঘিঞ্জি অবস্থা এতই মারাত্মক যে, সিবিপির নিজস্ব পরিদর্শকদের পরিদর্শনের সময় অভিবাসীদের ভেতর থেকে বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হচ্ছিল। তারা জানালায় চিরকুট দিয়ে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিল। মে মাসে মহাপরিদর্শক টেক্সাসের এল পাসো এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের পর একই অবস্থার কথা জানিয়েছিলেন। প্রাথমিক ওই তদন্তের ওপর ভিত্তি করে পরের মাসে করা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘একটি জায়গায় সঙ্গীহীন প্রাপ্তবয়স্কদের এক সপ্তাহের জন্য দাঁড়িয়ে থাকার মতো অবস্থায় রাখা হয়; অন্যদিকে আরেকটিতে সঙ্গী ছাড়া আসা পরিণত বয়সীদের এক মাসের বেশি সময় ঘিঞ্জি খুপরিগুলোতে রাখা হয়।’ সর্বশেষ প্রতিবেদনের পর ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা সিবিপির কাছ থেকে অনেক প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন। তাদের এ চাওয়ার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে নিউ ইয়র্ক সিটিভিত্তিক জনস্বার্থে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করা সংস্থা প্রোপাবলিকার একটি প্রতিবেদনে। প্রোপাবলিকার অনুসন্ধান অনুযায়ী, সিবিপির বর্তমান ও সাবেক কিছু কর্মী অভিবাসীদের মৃত্যু নিয়ে কৌতুকের পাশাপাশি কংগ্রেস সদস্যদের হুমকি দিয়েছেন। এদিকে আইজি কার্যালয়ের প্রতিবেদনের বিষয়ে হাউজের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদন মারাত্মক ও অমানবিক অবস্থার বেদনাদায়ক জানালা খুলে দেয়, সীমান্তে শিশু ও পরিবারগুলোর ওপর যা চাপিয়ে দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তে অমানবিকতা আমেরিকার চৈতন্যের প্রতি চ্যালেঞ্জ।’
