হাইকোর্টের রায়

ঢাকায় ভবনের পার্কিংয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ০৩:৩১ এএম

ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ভবনের সামনে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদিত কার পার্কিংয়ের জায়গায় সব অবৈধ স্থাপনা ৩০ দিনের মধ্যে সরাতে দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে এসব অবৈধ স্থাপনা না সরালে তা ছয় মাসের মধ্যে উচ্ছেদ বা ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাজউক, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা এ দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া ঢাকায় সড়কের যেনতেন জায়গায় গাড়ি পার্কিংয়ের অনুমতি না দিতে দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে রায়ে।

গতকাল বুধবার এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে এসব নির্দেশনা দেয়। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাজউকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. ইমাম হাসান।

রায়ে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে বিভিন্ন ভবন ও বাসাবাড়ির নিচে কার পার্কিংয়ের জায়গাগুলোতে যারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, তাদের ৩০ দিনের মধ্যে সরে যেতে বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। এ দায়িত্ব পালন করবে রাজউক। এ সময়ের মধ্যে যদি ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না সরে তাহলে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট অন্য প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের রাস্তার পাশের ভবনে থাকা কার পার্কিংয়ের জায়গা যারা ব্যবহার করছেন, তাদের উচ্ছেদ করবে। আর উচ্ছেদ করতে গেলে যে খরচ হবে তা ভবন মালিকের কাছ থেকে আদায় করার কথা বলা হয়েছে রায়ে। পাশাপাশি এই অবৈধ স্থাপনার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বলা হয়েছে, পত্রিকায় যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে তা প্রত্যেকটি এলাকাভিত্তিক অথরাইজড অফিসার পাবলিক নোটিস আকারে বিষয়টি মাইকিং করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জানিয়ে দেবেন যাতে যেসব ভবনের সামনে অবৈধ স্থাপনা আছে সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। আর এসব আদেশ পালন করে তিন মাসের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের কথা বলা হয়েছে।

রায়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে বলা হয়েছে, সড়কের যেনতেন জায়গায় গাড়ি পার্কিংয়ের অনুমতি দেওয়া যাবে না। যেসব জায়গায় কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই, সেসব জায়গায় কার পার্কিং হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে এ বিষয়ে হাইকোর্টকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘রাজউকের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা শহরের ভবনগুলোতে কার পার্কিংয়ের স্থান নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক ভবন মালিকই কার পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। ফলে ওই গাড়িগুলো রাস্তায় পার্কিং করতে হচ্ছে। যে কারণে শহরে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে নাগরিকের চলাচলও মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে।’ তিনি জানান, এসব কারণ জানিয়ে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ২০১৫ সালে একটি রিট আবেদন করা হয়। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিল। দীর্ঘদিন শুনানি শেষে ওই রুলকে যথাযথ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত