গেঞ্জির দাম ১০০ টাকা কম বলায় ছাত্রলীগ কর্মীকে মারতে মারতে হাসপাতালে

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ০৯:৪৫ পিএম

প্রথম দফার মারধরের পর আহত এক কলেজছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মীকে দ্বিতীয় দফায় হাসপাতালে ঢুকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় আহত কলেজছাত্রকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হাসপাতালের একজন নার্স ও ওই ছাত্রের পরিবারের ৩ সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে নড়াইল সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আহত কলেজছাত্র লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের শালবরাত গ্রামের শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে নাছির উদ্দিনের (২৫) ছেলে। সে লোহাগড়া সরকারী আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী।

আহত নাছির বলেন, ‘লোহাগড়া বাজারের মোল্যা মার্কেটের তালহা ফ্যাশনে টি শার্ট কিনতে যাই। এসময় দুটি টি-শার্টের দাম ওই দোকানদার ৪শ টাকা দাবি করে। আমি ৩ শ টাকা দাম বলায় আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এই নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে আমাকে দোকানদার শামীম, বিপ্লবসহ ৩/৪ জন মিলে স্টিলের একটি লাঠি দিয়ে বাড়ি মারে। তখন আরও মারতে গেলে আমি দৌড়ে পাশের দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেই। সেখানে গিয়ে আমাকে ঘিরে মারতে থাকে। এ সময় আমার ডান পা, মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে ও রক্ত ঝরতে থাকে। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আহত নাছিরের মা রেনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে নাছিরের চিকিৎসার জন্য লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিকাল ৫টার দিকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। রাত ৮টার দিকে লোহাগড়ার ওই দোকানদারসহ অপরিচিত ১৫/১৬ জন লোক এসে হাসপাতালের বেডে আমার ছেলের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমার ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে যায়। ক্ষুর দিয়ে মাথায় পোঁচ দিতে যায়। ঠেকাতে গিয়ে আমিসহ আমার ছোট ভাই নাইম মিয়া, ছোট মেয়ে টেকলি এবং একজন নার্স আহত হয়েছি। ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলতো। আমরা হাসপাতালে এখন চরম আতঙ্কে রয়েছি।’

তবে অভিযুক্ত বিপ্লব বলেন, নাছির আগে হামলা চালিয়ে আমাদের দুজনকে আহত করে। এছাড়া পরে নড়াইল সদর হাসপাতালে গিয়ে কে বা কারা হামলা করেছে আমাদের জানা নেই।’

নড়াইল সদর থানার এসআই পিয়াস সাহা বলেন, খবর শুনেই ফোর্স নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ করি। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।

নড়াইল সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এএফএম মহিউদ্দিন হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন নাছিরের ওপর হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা হাসপাতালের বেডে গিয়ে হামলা চালায়। এ ঘটনার পর পুনরায় ওই ছেলেকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের একজন নার্সসহ ওই যুবকের পরিবারের সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। হাসপাতালের অভ্যন্তরে এসে মারার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত