নীলফামারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক হিন্দু পরিবারের জমি দখল করে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় ওই পরিবারের নীপেন্দ্রনাথ রায়ের স্ত্রী (৪৫) ও তার অষ্টম শ্রেণিপড়–য়া মেয়েকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারপিট করা হয়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে জেলা সদরের বড় সংগলশী এলোকমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত মা-মেয়েকে উদ্ধার করে নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনোয়ার হোসেন (২৫) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, নানা ভলু রায়ের কাছ থেকে পাওয়া বাড়ির ভিটার সঙ্গে ৩০ শতক জমি অনেক বছর থেকে ভোগদখল করে আসছে নীপেন্দ্রনাথ রায়সহ তার তিন ভাই। পাশর্^বর্তী চড়াইখোলা ইউনিয়নের দালালের বাজার গ্রামের মজিবুর রহমান ওই ৩০ শতক জমি কিনেছেন বলে তিন বছর থেকে দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে একাধিক মামলা রয়েছে।
মজিবুর রহমানের করা একটি মামলায় ৩ জুলাই আদালত নীপেন্দ্রকে কারাগারে পাঠায়। নীপেন্দ্রর অনুপস্থিতিতে শুক্রবার সকালে মজিবুর তার ছয় ছেলেসহ ভাড়া করা অর্ধশতাধিক লোক নিয়ে ওই জমি দখল দিতে গেলে নীপেন্দ্রর স্ত্রী-মেয়েসহ পরিবারের লোকজন বাধা দেয়। এ সময় হামলাকারীরা নীপেন্দ্রর স্ত্রী ও মেয়েকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পিটিয়ে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভান।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার এবং একজনকে আটক করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নীপেন্দ্রর স্ত্রী বলেন, ‘তারা আমাকে এবং আমার মেয়েকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রেখে বেধড়ক মারপিট করে। এ সময় আমাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।’
এদিকে মজিবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি প্রকৃত মালিকেদের কাছ থেকে জমি কিনেছি। নীপেন্দ্র ওই জমির অবৈধ দখলদার।’ নীলফামারী সদর থানার পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম বলেন, ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুপক্ষের মধ্যে আদালতে ও থানায় ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে।
