প্রজ্ঞাপনের সুবিধাভোগী খেলাপিরা ২ মাস ঋণ পাবে না

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৯, ১২:২৮ পিএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনের সুবিধাভোগী খেলাপিদের আগামী দুই মাস কোনো ঋণ দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি করে এ নির্দেশ দেয়।

আপিল বিভাগ বলেছে, বিশেষ শ্রেণিকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। সরকারের উচিত ব্যাংকগুলোর পরিচালনায় সৎ লোক নিয়োগ নিশ্চিত করা।

ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের টাকা এখনো সম্পূর্ণ আদায় করতে পারেনি উল্লেখ করে আদালত বলেছে, এ টাকা আদায় পারবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ আছে।

আদালত আরও বলে, গ্রামের কৃষকদের বিরুদ্ধে সামান্য ঋণের জন্য মামলা হচ্ছে। তবে বড় বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার জানতে চায় আদালত।

প্রজ্ঞাপনের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থায় চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়েছে আপিল বিভাগ। এ সময়ের মধ্যে হাইকোর্টের দেওয়া রুল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।

গত ১৬ মে ঋণখেলাপিদের স্মরণকালের সর্বোচ্চ সুবিধা দিয়ে নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাত্র ২ শতাংশ এককালীন নগদ জমা (ডাউন পেমেন্ট) দিয়ে ১০ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট বা সম্পূর্ণরূপে পরিশোধের বিশেষ সুবিধা পাবেন খেলাপিরা। এ ক্ষেত্রে তাদের ঋণের সুদহার হবে ব্যাংকের পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ, তবে তা কোনোমতেই ৯ শতাংশের বেশি হবে না।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের অনারোপিত সুদ মওকুফ সুবিধা ছাড়াও খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের দায়ের করা মামলাও স্থগিত রাখা হবে।

ওই দিনই পৃথক আরেক সার্কুলার জারি করে যারা ঋণ নিয়ে নিয়মিত পরিশোধ করেন, তাদের সুদে ১০ শতাংশ রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতেও নিয়মিত গ্রাহকদের ঋণখেলাপিদের চেয়ে বেশি হারে সুদ পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানে নিয়মিত গ্রাহকদের ঋণের বিপরীতে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিতে হচ্ছে।

পরে এক রিটের শুনানি নিয়ে ২১ মে ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা দেয় বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এরপর অর্থ বিভাগের এক আবেদনে চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান হাইকোর্টের আদেশ ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত