সামান্য বৃষ্টি হলেই দিনাজপুর সদর উপজেলার বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফার) গুদামের ইউরিয়া সার গলে গিয়ে মিশছে জলাশয়ে। যাচ্ছে ভূগর্ভেও। ফলে উপজেলার কসবা ও ফকিরপাড়া এলাকায় নলকূপের পানিও হয়ে পড়েছে ব্যবহার অনুপযোগী। যারা বাধ্য হয়ে ইউরিয়া মিশ্রিত এই পানি ব্যবহার করছে, তারা আক্রান্ত হচ্ছে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায়।
সরেজমিন দেখা গেছে, বাফার সার গুদামে জায়গাসংকটের কারণে বাইরেও ইউরিয়া সারের বস্তা রাখা হয়েছে। আর অল্প বৃষ্টিতেই গলে যাচ্ছে সেই সার। মিশছে আশপাশের জলাশয়ে। যাচ্ছে ভূগর্ভেও। এতে কসবা ও ফকিরপাড়া এলাকার তিন শতাধিক পরিবার গৃহস্থালির নানা কাজে নলকূপের পানি ব্যবহার করতে পারছে না। ইউরিয়া সার মিশ্রিত পানি ব্যবহার করে মাথার চুল উঠে যাওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছে ওই এলাকার বাসিন্দরা। পাশাপাশি মরছে পুকুরের মাছ, অসুস্থ হচ্ছে গৃহপালিত পশু-পাখি।
কসবা এলাকার নাহিদ আহমেদ জানান, সার গুদামের পাশের একটি পুকুরে মাছ চাষ করেই সংসার চলত তার। কিন্তু গুদামের সারের কারণে পুকুরের মাছ চাষ বন্ধ করে এখন সেটা ভরাট করতে বাধ্য হচ্ছেন।
একই এলাকার গোলাপী বেগম বলেন, তারা দুই বছর ধরে নলকূপের পানি পান করতে পারেন না। বাড়ির কাজেও নলকূপের পানি ব্যবহার করতে পারেন না। নলকূপ দিয়ে হলুদ পানি বের হয়। এই পানি দিয়ে রান্না করলে তরকারিও হলুদ হয়। হাত-পায়ে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ হচ্ছে। মাথার চুল অনেকেরই উঠে যাচ্ছে।
মূলত গুদামে সারের পরিমাণ বেশি থাকায় বছরজুড়ে বাইরে সার রাখে কর্র্তৃপক্ষ। অল্প বৃষ্টি হলেই ইউরিয়া সার গলে পানিতে মিশে যায়।
এ বিষয়ে দিনাজপুর বিসিআইসি ও পুলহাট বাফার গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্বিজেন্দ্রনাথ
রায় জানান, পুলহাটের এই গুদামের ধারণক্ষমতা ৬ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু বর্তমানে মজুদ আছে ১২ হাজার ৪৯৩ মেট্রিক টন। অনেক সময় ২০ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত সারও মজুদ রাখতে হয় বলে জানান তিনি।
সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। সেই অভিযোগের কপি ঢাকা হেড অফিসসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছি। ইতিমধ্যে পুলহাট এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য আমরা বিসিআইসির ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’
এ বিষয়ে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘পানিতে ইউরিয়া মিশ্রিত হলে সেই পানি ইউরিয়া পয়জনিং হতে পারে। এ ছাড়া চুলকানি, অ্যালার্জি, ত্বকের জ্বালাপোড়া, প্রদাহ এবং চুলও উঠে যেতে পারে।’
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম জানান, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। যে এলাকার পানিতে ইউরিয়া মিশ্রিত হয়েছে সেই দূষিত এলাকা পর্যবেক্ষণ করেছি। ইতিমধ্যে সেই এলাকায় দুটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
