চার দিনের টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বান্দরবান-কেরাণীহাট সড়কের বাজালিয়ায় রাস্তা ডুবে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পরিবহন মালিকরা।
ফলে কোনো দূরপাল্লার যানবাহন বান্দরবান ছেড়ে যায়নি। ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার থেকে আসা বাসগুলোও আটকা পড়েছে বাজালিয়ায়। যাত্রীরা পানিতে ডুবে থাকা সড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার অংশ ভ্যান, নৌকা এবং পায়ে হেঁটে পার হচ্ছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে বাজালিয়ার বড়দুয়ারা নামক স্থানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় কোমর সমান পানিতে ডুবে রয়েছে রাস্তা। দুই দিক থেকে আসা যাত্রীদের কেউ কেউ নৌকায়, কেউবা হেঁটে, কেউ ভ্যানে চড়ে পার হচ্ছেন।
চট্টগ্রাম থেকে আসা যাত্রী নাজিম উদ্দিন, মো. সোলায়মান ও শহীদুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৭টার বাসে উঠেছি। ১০টার দিকে এখানে পৌঁছে দেখি বাস আর যাচ্ছে না। তাই পানিতে ডুবে থাকা অংশটি নৌকায় পার হয়ে সিএনজিতে চড়ে বান্দরবান যেতে হচ্ছে।
সেন্টমার্টিন পরিবহন বান্দরবান কাউন্টারের কর্মচারী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সকাল ১০টায় আমাদের একটা বাস ঝুঁকি নিয়েই ডুবে থাকা অংশটি পার হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। তবে রাস্তার পানি না কমলে রাতে আর ঢাকার বাস যাবে না।’
উল্লেখ্য, প্রতি বছর দুই-তিন দিনের বৃষ্টিতেই বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়ার বড়দুয়ারা নামক স্থানে সড়ক ডুবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন এই রুটে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রী।
অন্যদিকে অব্যাহত বর্ষণে বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার নদী তীরবর্তী বসতি এবং নিম্নাঞ্চলগুলো তলিয়ে গেছে। উপদ্রুত এলাকাগুলো থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত একশ’র বেশি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের ত্রাণ শাখা, লামা এবং বান্দরবান পৌরসভা সোমবার দুপুর থেকে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোকে খিচুড়ি এবং পানীয় জল সরবরাহ করছে।
জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে জানান, জেলায় ১২৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নে্ওয়া লোকজনের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী মজুদ আছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে লোকজনকে সরে যাবার জন্যে মাইকিং করা হচ্ছে।
