টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও সীমান্তের উজান থেকে ধেয়ে আসা পানিতে সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে এসব উপজেলার পাকা ও আধা পাকা সড়ক। সুরমা নদীতে পানি বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। ঢলে দ্বিতীয় দফায় বেড়েছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর পানি। খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বেড়ে সড়ক ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অন্তত ২০ গ্রামবাসী। ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামে মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে ২০টি গ্রাম। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসল। শেরপুরের পাঁচ ইউনিয়ন, লালমনিরহাটের ১৫ গ্রামে দেখা দিয়েছে বন্যা। বান্দরবান এখনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
খাগড়াছড়ি : বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনী নদীতে পানি প্রবাহ কমছে না। এখনো নিচু এলাকার কয়েকশ ঘরবাড়িতে পানি রয়েছে।
দীঘিনালার মাইনী নদীতে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে মেরুং বাজারের অধিকাংশ স্থানে পানি উঠেছে। উপজেলার মেরুং, কবাখালী ও বাবুছড়া ইউনিয়নে অন্তত ১০টি আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। বন্যার পানিতে বড়মেরুং স্টিলব্রিজ ডুবে যাওয়ায় দীঘিনালার সঙ্গে রাঙামাটির লংগদু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পানছড়ির দুদুকছড়া, হারুবিল, বাবুরাপাড়া, মধুমঙ্গলপাড়া, পুজগাং বাজারসহ কয়েকটি এলাকা পানিতে তলিয়ে গেয়ে। দুদুকছড়া ব্রিজের মাঝখানে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাবুরাপাড়ায় বেইলি ব্রিজ ও পুজগাং ব্রিজ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কমপক্ষে ২০ গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সুনামগঞ্জ : গতকাল বুধবার সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। এদিন রেকর্ড করা হয়েছে ১৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।
সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শতাধিক গ্রামে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। সড়কগুলো গেছে তলিয়ে। পানিবন্দি হয়ে আছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। শৌচাগার ও টিউবওয়েলগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে খাবার পানির। চুলা জ্বলছে না এলাকার রান্নাঘরগুলোয়।
নেত্রকোনা : দ্বিতীয় দফায় পানি বেড়ে দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদী বইছে বিপদসীমার ১৫ দশমিক ৮৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। দুর্গাপুর-শিবগঞ্জ, বিরিশিরি-শিবগঞ্জ, ফারাংপাড়া-কামারখালী, চৈতাটি-গাঁওকান্দিয়া ঘাটে নদীর তীব্র স্রোতের মধ্যে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে নৌকা পারাপার হচ্ছেন। নদীতীরজুড়ে দেখা দিয়েছে ভাঙনের আতঙ্ক।
ফেনী : ফুলগাজী ও পরশুরামের মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের অন্তত নয় স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। এতে উপজেলা দুটির অন্তত ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে এবং জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ায় হায় হায় করছেন কৃষকরা। পানিবন্দি হয়ে আছেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলে বন্যা নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
শেরপুর : ঝিনাইগাতীর পাঁচ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। মহারশী ও সোমেশ্বরীর স্রোতে বাঁধ ভেঙে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়। নিমজ্জিত হয়েছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, রোপা আমনের বীজতলা, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।
লালমনিরহাট : তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও জেলার চার উপজেলার ১৫টি গ্রামের কমপক্ষে পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি। উজানের পানির চাপে খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট। আদিতমারীতে দেখা দিয়েছে ভাঙন।
বান্দরবান : দ্বিতীয় দিনের মতো সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে বান্দরবান। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দুয়ারা নামক জায়গাটিতে প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তা কোমরসমান পানিতে ডুবে থাকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী কোনো দূরপাল্লার বাস বান্দরবান শহর থেকে ছেড়ে যাচ্ছে না। যাত্রীরা হেঁটে, নৌকায় এবং ভ্যানে চড়ে ডুবে থাকা অংশটুকু পার হয়ে বিকল্প উপায়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করছে।
