ঐহিতাসিক লর্ডস। এখানেুই এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। ২৩ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পেতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব। এই ভেন্যু নিয়ে কত শত স্মৃতি কিউই কোচ গ্যারি স্টিডের। তার আশা, তিন দশক আগে যেসব জানলার কাঁচ তিনি ঘষে ঘষে পরিষ্কার করতেন, তার কয়েকটা ভেঙে যাক তার দলের ব্যাটসম্যানদের সীমানা পার করা শটে।
কৈশোরের এক গ্রীষ্মের ছুটিতে এমসিসি গ্রাউন্ড স্টাফের হয়ে লর্ডসে কাজ করেছেন গ্যারি স্টিড। ক্রিকেটের তীর্থক্ষেত্রে জানলা সাফ করা থেকে শুরু করে স্কোরকার্ড বিক্রি করার পাশাপাশি বিখ্যাত ক্রিকেটারদের দেখে নিজের খেলায় আরো উন্নতি করার চেষ্টা করেছেন সেই সময়ে। এত বছর পর সেই লর্ডসে তার দল বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামার প্রাক্কালে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন স্টিড।
চার বছর আগেও বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সেবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায় তারা। সেই দলের সাতজন আছেন এবারের দলে। তাঁদের চাপমুক্ত রেখে ২০১৫ আসরের পুনরাবৃত্তি এড়ানোই এখন স্টেডের প্রধান কাজ।
"একটা তো মোটে ম্যাচ। আর অঙ্কের হিসেবে আমাদের জেতার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ। জানি, অনেকেই ভাবছেন এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডের যা ফর্ম, তাতে তারাই ফেভারিট, কিন্তু ফাইনালে যখন উঠে পড়েছি, তখন জেতার জন্য ঝাঁপাবোই।"
“যতই সম্ভাব্য পরিস্থিতি ভেবে তার জন্য তৈরি হওয়ার চেষ্টা করুন, এত বড় ম্যাচের চাপই আলাদা। আর দুটো দলের কেউই এর আগে বিশ্বকাপ জেতেনি, সেটাও একটা বাড়তি চাপ। মোট কথা, যে এই চাপ ঠিকমত সামলাবে, সেই জিতবে কাল। দুদলই মাঠের মধ্যে জান দিয়ে খেলবে। তবে ফলাফল যাই হোক, সেটাকে মেনে নিয়ে বিয়ারে চুমুক দিতেও তাদের বেশি সময় লাগবে না।”
স্টিড আরো বলেন, “আমরা তিনটে লক্ষ্য নিয়ে ইংল্যান্ডে এসেছিলাম। দুটোয় পৌঁছে গেছি, এখন মাত্র একটা বাকি।"
গত বছরে জুনে মাইক হেসনকে সরিয়ে স্টিডকে নিউজিল্যান্ডের কোচিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। হেসন ও ব্রেন্ডন ম্যাকালামের অধীনে নিউজিল্যান্ড যেধরনের মারমুখী খেলার জন্য বিখ্যাত হয়েছিল, সেধরনের ক্রিকেটেই বিশ্বাস করেন স্টিড। তবে চার বছর আগের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের কথা বলার সময় অবশ্য স্টেডকে বেশ রক্ষণশীল শোনায়- "প্রত্যাশার চাপ তো থাকবেই, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নিতে হবে।”
