রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোম্পানি হচ্ছে

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৯, ১০:৩৮ পিএম

মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব ধরনের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি কোম্পানি গঠন করার কথা বলা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়। যেসব দেশ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি সংগ্রহ করা হবে, সে-সব দেশেই ফেরত পাঠানো হবে ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি। এ নীতিমালার আওতায় আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সংগতি রেখে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ সরকার।

তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমানবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের দায়িত্ব সম্পর্কে খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারের বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও নিয়ন্ত্রণ পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠা করবে, যার ভিত্তিতে নিরাপদ তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহকারী দেশের সঙ্গে ব্যবহৃত জ্বালানি ফেরত পাঠানো ও এর ব্যবস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তবায়ন পদক্ষেপ গ্রহণ বিষয়ে আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি করবে।

‘দূষণ করবে যে, টাকা দেবে সে’ নীতিতে উৎপাদিত তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনার আর্থিক দায়ভার বহন করবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ত্রুটিপূর্ণ জ্বালানি এসেম্বলি সিলড করা বাক্সে সংরক্ষণসহ পরমাণু চুল্লির কোর তার পরিচালন সময়কালে যেকোনো সময় আনলোড করতে হতে পারে এমন সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে ব্যবহৃত জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে কমপক্ষে ১০ বছরের ব্যবহৃত জ্বালানি সংরক্ষণ করা যাবে।

তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (আরডাব্লিউএমসি) প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) আওতায় এ কোম্পানি গঠিত হবে। কোম্পানিটি তেজস্ক্রিয় বর্জ্যে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা স্থাপনাগুলোর লাইসেন্সধারী ও অপারেটর হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণ ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নিষ্পত্তিকরণ স্থাপনা নির্মাণ ও দেখভাল করবে। ডি-কমিশনিং কার্যক্রম থেকে উৎপন্ন তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায়বদ্ধ থাকবে এ কোম্পানি। এছাড়া, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া তেজস্ক্রিয়তা দূষণমুক্ত এলাকাগুলোর পরিবেশগত দূষণ মোকাবেলায় কাজ করবে এ কোম্পানি।

নীতিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, যতদিন পর্যন্ত এ কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন বিএইসি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ থেকে উৎপাদিত তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ছাড়া অন্যান্য কর্মকা- থেকে উৎপাদিত তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ ও তেজস্ক্রিয় সক্রিয়তার মাত্রা বিবেচনায় উভয় দিক থেকে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন সীমিত রাখার ব্যবস্থা নেবে। তেজস্ক্রিয় পদার্থের পুনঃব্যবহার বা পুনঃব্যবহারের বিষয়টিকে তেজস্ক্রিয় সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত মানদ- প্রতিপালন সাপেক্ষে বিবেচনা ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ও পারমাণবিক জ্বালানি আমদানি করা যাবে না। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি সব সময়ই জ্বালানি সরবরাহকারীর কাছে ফেরত পাঠানোর বিষয় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-১৯৯৭ ও আন্তর্জাতিক আইন মোতাবেক নিষ্কৃত বর্জ্য বাদে সব ধরনের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য  যথাযথভাবে লাইসেন্স করা নির্দিষ্ট স্থাপনায় নিষ্পত্তিকরণই হবে নিরাপদ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত শেষ বিন্দু। তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সব কার্যক্রম উন্মুক্ত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা হবে। নিরাপত্তা ও মালিকানা সংক্রান্ত তথ্যাবলির ওপর উপযুক্ত গুরুত্ব দেওয়া সাপেক্ষে এ সংক্রান্ত তথ্যে জনগণের প্রবেশাধিকার থাকবে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গবেষণা চুল্লি ও অন্যান্য উৎস থেকে উৎপাদিত তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশে উৎপাদিত সকল তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নিরাপদ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি মাত্র স্বতন্ত্র নিষ্পত্তিকরণ স্থাপনার স্থান নির্ধারণ, নির্মাণ ও পরিচালনার বিধান থাকবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা গবেষণা চুল্লি থেকে পাওয়া পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপনার কাছে সংরক্ষণ করতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না এর তেজস্ক্রিয়তা জ্বালানি সরবরাহকারীর কাছে ফেরত পাঠানোর মতো যথেষ্ট পরিমাণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত