নগরীতে নির্ধারিত কসাইখানা না থাকায় যেখানে-সেখানে গরু, ছাগল, ভেড়া জবাই করা হচ্ছে। যেকোনো পশু জবাইয়ের আগে একজন পশুচিকিৎসকের সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সুস্থ পশু কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার নিয়ম থাকলেও এসব দেখভালের কোনো ব্যবস্থা নেই। পশু পরীক্ষা না হলেও মাংসখণ্ডে সিটি করপোরেশনের সিল মারা হচ্ছে। এভাবে প্রতারিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ছোট অপুষ্ট, রোগাক্রান্ত গরু-ছাগল জবাই হচ্ছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্যানেটারি ইন্সপেক্টরের এগুলো দেখভালের কথা থাকলেও তিনি বলছেন, এ বিষয়ে তার কোনো দায়িত্ব নেই। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) তথ্যমতে, কাগজে-কলমে নগর কর্র্তৃপক্ষের কোনো কসাইখানা নেই। সাহেববাজার এলাকায় বাজারের একটি অংশকে আপাতত কসাইখানা ও মাছ, মাংস বিক্রির স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানেই সবচেয়ে বেশি পশু জবাই হয়। এর বাইরে শালবাগান, লক্ষ্মীপুর, নওদাপাড়াসহ নগরীর মোড়ে মোড়ে জবাই হয় পশু।
বৃহস্পতিবার বাদে সপ্তাহের প্রতিদিনই কসাইরা গরু-ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রি করেন। গত শনিবার ভোররাতে সাহেববাজার কসাইখানায় গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ী ও কসাইরা সুস্থ পশুর পাশাপাশি রোগাক্রান্ত গরু, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে এসে পরীক্ষা না করেই জবাই করছেন। নিয়ম অনুযায়ী সেখানে কোনো পশুচিকিৎসক নেই। জবাই করা হচ্ছে অপুষ্ট ছোট বাছুর। একই অবস্থা ছাগলের ক্ষেত্রেও।
সাহেববাজারের কসাই শাজাহান আলী বলেন, গত শুক্রবার ৫৫টি খাসি জবাই করেছেন। প্রতিটি খাসির ওজন হবে ৩-৯ কেজি। সবগুলোই ছাগি। সেখানে চিকিৎসক আসে না। তবে তাদের কিছু করার নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। শাজাহান বলেন, অন্য ব্যবসায়ীরা যা করছে, তাকেও তা-ই করতে হয়। তবে তিনিও চান ডাক্তার থাকবেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন তারপর তারা পশু জবাই করবেন। যাতে মানুষ ভালো পুষ্টিকর মাংস খেতে পারে।
কসাইখানার পাশের খাবার হোটেলের মালিক মোহাম্মদ আলী বলেন, এখানে গরু জবাই হয় ৩০-৩৫ কেজি ওজনের। এসব গরু দেখলে খেতে ইচ্ছে করে না।
আর রাতে এসব গরু-ছাগল জবাই করা হয় বলে মানুষের দেখার কোনো সুযোগ নেই। না দেখেই খাচ্ছে মানুষ। তিনি বলেন, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা না হলেও সিটি করপোরেশনের লোক এসে সিল মারে আর টাকা নিয়ে চলে যায়। মানুষ সেই সিল দেখে ভালো মনে করে মাংস কেনে।
এ বিষয়ে রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বলেন, আসলে আমাদের কোনো নির্ধারিত কসাইখানা নেই। এ জন্য মনিটরিং করা হয় না।
তারপরও ১২ জনের একটি টিম আছে। প্রতিটি সিল দিতে ব্যবসায়ীদের কাছে ছাগল, ভেড়া ৫ ও গরু, মহিষ ২০ টাকা করে নেওয়ার কথা। সিটি করপোরেশনের ভেটেরিনারি চিকিৎসক ফরহাদ উদ্দিন জানান, একাধিকবার প্রধান প্রকৌশলী ও মেয়রকে চিঠি দিয়েছি তাতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিভাগে জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাই আমাদের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, আমরা নির্দিষ্ট কসাইখানার জন্য কাজলা এলাকায় একটি জায়গার ব্যবস্থা করেছি। আগামী এক বছরের মধ্যে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।
