বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। টানা নয় দিন বৃষ্টির পর সোমবার থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীতে পানির স্তর নেমে গেছে।
বিভিন্ন জলাবদ্ধ জায়গা থেকেও সরে যাচ্ছে বন্যার পানি। জেলা সদর এবং লামা উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে বন্যা উপদ্রুত মানুষ। তবে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়ায় সড়ক ডুবে থাকায় বান্দরবানের সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের যোগাযোগ এখনো চালু হয়নি।
বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘পানি নেমে যাওয়ায় লোকজন তাদের বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে। প্রায় দেড়শ’ পরিবারের ঘরবাড়ি পানিতে ভেসে গেছে। আমরা গত কয়েকদিন রান্না করা খাবার বিতরণ করেছি। যারা বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে তাদেরকে চাল দেওয়া হচ্ছে।’
লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘লামাতে পায় ২ হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩শ’র বেশি পরিবারের ঘরবাড়ি একেবারেই ভেঙে গেছে। আমরা ২৭ টন খাদশস্য বরাদ্দ পেয়েছি, যা ক্ষতির তুলনায় অপ্রতুল।’
বান্দরবান শহরের আর্মি পাড়া, শেরে বাংলা নগর, ইসলামপুর, ক্যচিংঘাটা, বালাঘাটা ও কালাঘাটার বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ও অন্যান্য স্থাপনা পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৫-৬ দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই। টিউবওয়েল, রিংওয়েল ডুবে যাওয়ায় খাবার পানিরও সংকট চলছে।
বালাঘাটা বাজারের বাসিন্দা তারেকুল ইসলাম বলেন, ‘৫-৬ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। পৌর পানি সরবরাহ বন্ধ। টিউবওয়েল, রিংওয়েলগুলো ডুবে পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমরা বাজার থেকে জারের পানি কিনে কোনোরকমে দিন চালাচ্ছি।’
পূর্ব কালাঘাটার বাসিন্দা জন ত্রিপুরা বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ নেই। স্থানীয় বাজারে তরিতরকারিসহ খাদ্যসামগ্রীর সংকট চলছে। যা আছে তা-ও দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।’
বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ে মাটি ধসে বান্দরবান জেলা সদরের সঙ্গে উপজেলাগুলোর সড়ক যোগাযোগ এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় সেখানেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আলম জানান, ‘বান্দরবানের জন্য ৪৫০ মে. টন চাউল, সাড়ে ৭ লাখ নগদ টাকা, ৫শ’ টি তাঁবু, ২ হাজার ৫শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ ছিলো। এগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণ করা হচ্ছে। এর বাইরেও গত এক সপ্তাহ ধরে খিচুড়ি রান্না করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দেয়া হচ্ছে।’
