মাটি ফেলার স্থান সংকট

মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলের খনন বন্ধের উপক্রম

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৯, ১১:০৭ পিএম

নদী থেকে উত্তোলিত পলি ফেলার জায়গা সংকটের কারণে বাগেরহাটের মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের খনন কাজ হুমকির মুখে পড়েছে। চ্যানেলটির মোংলা ও রামপাল অংশের প্রায় ২৬ কিলোমিটার নদীর দুপাড়ের জায়গা ভরাটের পর এখন নতুন করে জায়গা না পাওয়ায় অনেকটা বন্ধের উপক্রম হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের ড্রেজিং কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ জানায়, মোংলা বন্দরের সঙ্গে সারা দেশের নৌপথের দূরত্ব কমাতে ১৯৭৪ সালে ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলটির খনন করা হয়।

কিন্তু ৮০’এর দশকের পর থেকে স্থানীয়রা ওই চ্যানেলটির সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোতে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি মাছ চাষ শুরু করে। এর ফলে জোয়ার-ভাটার পানি সংযুক্ত খাল দিয়ে নিচু ও ফসলি জমিতে প্রবাহিত হতে না পারায় দ্রুত পলি পড়ে মূল চ্যানেলই ভরাট হতে শুরু করে। একপর্যায়ে ২০১০ সালে চ্যানেলটির ২২ কিলোমিটার নৌপথ পলি পড়ে ভরাট হয়ে নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১৪ সালের ১ জুলাই ২৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ভরাট হয়ে যাওয়া চ্যানেলটির পলি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করে পুনরায় চালু করা হয়। তারপর থেকেই নিয়মিতভাবেই চলছে এ চ্যানেলটির খনন কাজ। কিন্তু দ্রুত পলি পড়তে থাকায় বর্তমানে খননকৃত মাটি ফেলার জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ চ্যানেলের দুপাড়ে খননকৃত মাটি ফেলতে ফেলতে আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই।

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিচ্ছুজামান বলেন, মোংলা-ঘাষিয়াখালী নৌ চ্যানেলের নাব্যতা ঠিক রাখতে খননের এসব মাটি নদীর দুপাড়েই ফেলা হয়েছে। একই জায়গায় একাধিকবার এ মাটি ফেলায় উঁচু টিলার সৃষ্টি হয়েছে। যা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। এ ছাড়া নদী খননের মাটি বিনা মূল্যে দিতে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েও কোনো জায়গা পাচ্ছেন না তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রুবেল শেখ, গোলাম মাওলা কাকন, মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, নদী খননের মাটি দিয়ে নদীর দুপাড়ের অনেক নিচু এলাকা ভরাট হওয়ায় এখানকার জমির দাম বেড়েছে।    

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জাবের হোসেন মজুমদার বলেন, মোংলা-ঘাষিয়াখালী নৌ চ্যানেল খননের মাটি দিয়ে বিনা মূল্যে কয়েক’শ একর সরকারি বেসরকারি জমি ভরাট করা হয়েছে। মাটি ফেলার এখন আর কোনো জায়গা নেই। নতুন করে জায়গার সৃষ্টি না হলে ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত