‘ক্রিকেটের সাধারণ ভদ্রতা হলো স্টাম্পের দিকে ছোড়া বল যদি আপনার গায়ে লাগে তাহলে রান না নেওয়া। যদি সেটা গায়ে বা ব্যাটে লেগে অন্যদিকে চলে যায় তাহলে রান হয় না। কিন্তু বল বাউন্ডারির বাইরে চলে গেলে ক্রিকেট আইন অনুসারে চার রান পাবে ব্যাটিং করা দল। এ ব্যাপারে সত্যিই কিছু করার নেই।’
শেষ ওভারের সেই ওভার থ্রো বাউন্ডারিই কি ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করেছিল? অনেকেই হয়তো এই প্রশ্নের উত্তরে হ্যাঁ বলবেন। যদিও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়কে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তারপরও কিন্তু বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে ওভার থ্রো বাউন্ডারি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থামছে না। ইংল্যান্ড টেস্ট দলে স্টোকসের সিনিয়র সতীর্থ জেমস অ্যান্ডারসন জানিয়েছেন, আম্পায়ারকে ওভার থ্রো বাউন্ডারি না দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন স্টোকস।
লর্ডসে বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ড ইনিংসের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে রান নেওয়ার সময় বাউন্ডারি লাইন থেকে মার্টিন গাপটিলের থ্রো স্টোকসের ব্যাটে লেগে চার হয়ে যায়। দৌড়ে নেওয়া ২ আর ৪, মোট ৬ রান দেন আম্পায়ার। পরে অবসর নেওয়া আম্পায়ার সাইমন টাফেল সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছিলেন। ওভার থ্রো বিতর্কে সর্বশেষ সংযোজন স্টোকসের টেস্ট দলের সতীর্থ অ্যান্ডারসনের মন্তব্য। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, ‘স্টোকস ওই চারের পরেই আম্পায়ারকে গিয়ে বলে এই রান বাদ দেওয়া যায় কি না তা দেখার জন্য।’ যদিও আম্পায়াররা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। ম্যাচের পর ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে ইংলিশ অলরাউন্ডার বলেছিলেন, ‘আমি কেনের কাছে ক্ষমা চেয়েছি, কিন্তু ওটা ইচ্ছাকৃত ছিল না। খেলার মধ্যে হয়ে গিয়েছে, আমরা রানগুলো পেয়েছি।’ স্টোকস আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, ‘আমি সারাজীবন এই ঘটনার জন্য কেনের কাছে ক্ষমা চাইব।’
এত কিছুর পরও কিন্তু ওভার থ্রো নিয়ে আলোচনা কমছে না। বিবিসিকে সেই ঘটনা নিয়ে অ্যান্ডারসন আরও বলেন, ‘ক্রিকেটের সাধারণ ভদ্রতা হলো স্টাম্পের দিকে ছোড়া বল যদি আপনার গায়ে লাগে তাহলে রান না নেওয়া। যদি সেটা গায়ে বা ব্যাটে লেগে অন্যদিকে চলে যায় তাহলে রান হয় না। কিন্তু বল বাউন্ডারির বাইরে চলে গেলে ক্রিকেট আইন অনুসারে ৪ রান পাবে ব্যাটিং করা দল। এ ব্যাপারে সত্যিই কিছু করার নেই।’ তবে ক্রিকেট আইন ও রানের প্রেক্ষিত এবং গুরুত্ব বিবেচনা করে শিথিল করার অনুরোধ নাকি করেছিলেন স্টোকস। যদিও আম্পায়াররা সেই অনুরোধ মেনে নেওয়ার কোনো কারণ দেখেননি। তবে ফাইনালের দুই আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে পরে একমত হতে পারেননি পাঁচবার আইসিসির সেরা আম্পায়ারের পুরস্কার জেতা অস্ট্রেলীয় আম্পায়ার সাইমন টাফেল। তিনি বিতর্ক উস্কে দিয়ে বলেন, ‘৬ রান নয়, ৫ রান পাওয়া উচিত ছিল ইংল্যান্ডের। আমি অন্যের দোষ নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী নই। তবে আশা করি এমন ভুল যেন আর না হয়।’ নিউজিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার ইয়ান স্মিথ ওভার থ্রোর সময় ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘ছয় অনেক হয়েছে। কিন্তু ওভার থ্রোতে সব মিলিয়ে যে ৬ রানটা হলো, ওটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছয়।’ অনেকের মতে, ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের আসল কারণ এটাই।
