এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে রেকর্ডসংখ্যক ১৮ হাজার ১৮৭ শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন। বোর্ডের মধ্যে সারা দেশে এটি সেরা ফল। গতকাল বুধবার প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, রাজধানীর কলেজগুলো ফলাফলে শীর্ষস্থান দখল করেছে। বেশিরভাগ কলেজে পাসের হার বাড়ার পাশাপাশি গত বছরগুলোর তুলনায় বেড়েছে জিপিএ ৫-এর সংখ্যা। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে পাসের হার শতভাগ। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার সামান্য কমলেও বেড়েছে জিপিএ ৫, রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে গতবারের তুলনায় জিপিএ ৫ দ্বিগুণ বেড়েছে, নটর ডেম কলেজে রেকর্ডসংখ্যক ২ হাজার ২৪৫ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। প্রত্যাশিত ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে দেখা যায় বাঁধভাঙা আনন্দ। ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাসগুলোয় ঢাকঢোলের তালে নেচে ওঠেন তারা।
চার বছরের রেকর্ড রাজউক মডেল কলেজের : এবার এইচএসসি পরীক্ষায় রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। তাদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১২২ জন; যা গত চার বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। এমন ফলে গতকাল দুপুরে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। আনন্দ ভাগাভাগিতে উত্তীর্ণদের সঙ্গে যোগ দেন বর্তমান শিক্ষার্থীরাও। কলেজ প্রাঙ্গণে নোটিস বোর্ডে ফল টাঙিয়ে দেওয়ার পর থেকেই ছিল উচ্ছ্বাস আর খুশির বন্যা। ফল অনুযায়ী, ১ হাজার ৫৮৯ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার শতভাগ। জিপিএ ৫ বেড়েছে ৩৬৭। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত আলম বলেন, গত চার বছরের তুলনায় এবার কলেজের ফল সর্বোচ্চ। হয়তো ঢাকার কলেজগুলোর মধ্যে আমরা সেরা।
নটর ডেমে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২২৪৫ জন : নটর ডেম কলেজ থেকে পাস করেছেন ৯৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৫ শিক্ষার্থী। ঢাকার অন্যতম এই কলেজে এ বছর মোট ৩ হাজার ১৬১ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে অকৃতকার্য ১১ জন। ৯ জন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ও দুজন পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়ায় এমন হয়েছে বলে জানায় কলেজ কর্র্তৃপক্ষ। বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৮৫৬ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পূর্ণ জিপিএ পেয়েছেন ৩৪৩ পরীক্ষার্থী। মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৩৯৪ পরীক্ষার্থী। অধ্যক্ষ হেমন্তপিউস রোজারিও বলেন, ‘আমাদের কলেজের ফল বরাবরের মতো এবারও ভালো। আমরা সন্তুষ্ট।’
ভিকারুননিসায় পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩২ শতাংশ : ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে পাসের হার। কমেছে জিপিএ ৫-এর সংখ্যাও। এ বছর পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত বছর ছিল ৯৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা ঢাকঢোল পিটিয়ে আনন্দ করেছেন কলেজ প্রাঙ্গণে। অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগম বলেন, এ বছর পরীক্ষার্থীদের অনেকে অসুস্থ ছিল। তাই পাসের হার একটু কমেছে। ফলাফলে আমি অনেক খুশি। কলেজ থেকে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯২৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ৯১২ জন। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৭৭৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৭ শিক্ষার্থী।
দ্বিগুণ জিপিএ ৫ রেসিডেনসিয়াল কলেজের : গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ জিপিএ ৫ পেয়েছেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর এ কলেজে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। পাসের হারের দিক থেকেও গতবারের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। এ বছর ৪৬৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন; গেল বছর ছিল ২৩৭ জন। কলেজ অডিটরিয়ামে নির্মিত মঞ্চে ফল ঘোষণা করেন অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ। তিনি বলেন, আগের বছর জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কম হওয়ায় এ বছর আমরা বাড়তি সময় দিয়েছি। এতে আশানুরূপ উন্নতি হয়েছে। কলেজের বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ থেকে অংশ নেন ৯২৭ জন। এর মধ্যে কৃতকার্য ৯২৫ শিক্ষার্থী।
সিটি কলেজে কমেছে জিপিএ ৫ : ঢাকা সিটি কলেজে গতবারের চেয়ে পাসের হার সামান্য বেড়েছে। তবে কমেছে জিপিএ ৫-এর সংখ্যা। ৩ হাজার ৩৭০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৩ হাজার ৩৪৮ জন। শতকরা পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এদিকে গতবারের চেয়ে ৫ শতাধিক বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও জিপিএ ৫-এর সংখ্যা কমেছে শতাধিক, এর বেশিরভাগ বিজ্ঞানে। গতবারের ৮৩৭ জন জিপিএ ৫-এর বিপরীতে এবার পেয়েছে ৭২৫ জন। বিজ্ঞানের ফলাফলে সন্তুষ্ট নন কলেজটির অধ্যক্ষ শাহজাহান খান। তিনি বলেন, ‘ব্যবহারিকে ২৫ এর মধ্যে ২২-২ত পেলে জিপিএ ৫ ছুটে যায়। পরীক্ষা কেন্দ্রে তাদের খাতা নিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। ব্যবহারিকে কম নম্বর পাওয়ার জন্যই বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা জিপিএ ৫ কম পেয়েছে।’
