সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এবারও আমরা যেভাবে বেতন-ভাতা বাড়িয়েছি, আমি জানি না পৃথিবীর কোনো দেশ একই সঙ্গে এতটা বেতন-ভাতা বাড়াতে পারে কি না। এছাড়া আপনাদের জন্য আবাসন সমস্যা দূর এবং যাতায়াতের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু আমরা বিনিময়ে কী চাই বাংলাদেশের মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত হবে, উন্নত জীবন পাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় আছি বলে দেশের উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান হচ্ছে। মানুষ আজ উন্নয়নের ছোঁয়া উপলব্ধি করতে পারছে। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের এ উন্নয়নের ভাগীদার আপনারাও। কারণ মাঠ প্রশাসনে আপনারা কাজ করেছেন। দেশের উন্নয়নে আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ‘বার্ষিক সম্মিলন ২০১৯’
উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা একদিন বলেছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে কী হবে। তারা আমাদের বটমলেস ঝুড়ি বলেছিল। আমি চাই সেইসব দেশের যে দারিদ্র্যের হার তাদের চেয়ে অন্তত ১ শতাংশ হলেও আমাদের দারিদ্র্য কমবে। তাদের দেখাতে হবে আমরা পারি। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে কাজ করুন। তাদের কী প্রয়োজন সে অনুযায়ী আপনারা পদক্ষেপ নেবেন। আমাদের জনসংখ্যা বেশি, জমির স্বল্পতা রয়েছে। তাই সেভাবেই প্রতিটি পরিকল্পনা নিতে হবে যেন কৃষিজমি নষ্ট না হয়। উন্নত দেশ হতে হলে শিল্পের প্রয়োজন, তারপরও কৃষির ক্ষতি করা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মাদক, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে তা অব্যাহত রাখতে হবে। উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো পরিকল্পিতভাবে নিতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা সবাই মেধা দিয়ে চাকরিতে এসেছেন। তাই আপনাদের সেই মেধা দিয়ে এবং উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য নতুন নতুন কর্মসূচি দেবেন।
সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে একটা কর্মোপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা। কর্মক্ষেত্রে আপনারা যেন ভালোভাবে কাজ করতে পারেন এবং জীবন-মান যেন ভালো হয়, সহজ হয় এবং সুন্দরভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে সংসার চালাতে পারেন সেদিকে দৃষ্টি রেখেছি। যা যা প্রয়োজন আমরা আমাদের সাধ্যমতো করেছি।
সরকারি কর্মকর্তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথম যখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে তারপর থেকেই প্রতি তিন বছর পরপর বিনোদন ভাতা এবং ছুটির ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত ও জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসমুক্ত করতে চাই। মানুষের জীবনের শান্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। এই সীমাবদ্ধতা নিয়েও যে একটি দেশকে উন্নত করা যায়, আমরা তা এরই মধ্যে প্রমাণ করেছি। আমরা আমাদের বাজেট প্রায় আট গুণ বৃদ্ধি করেছি। এবার সর্ববৃহৎ বাজেট দিয়েছি। এটা কিন্তু একটা লক্ষ্য ছিল প্রতিবারই আমরা চেষ্টা করেছি যে, কবে আমরা ৫ লাখ টাকার ওপর বাজেট দেব। প্রবৃদ্ধি কবে ৮-এর ওপর তুলব। বঙ্গবন্ধু মুুক্তিযুদ্ধের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় শূন্য হাত নিয়ে শুরু করেও প্রবৃদ্ধি ৭ অর্জন করেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নতি করতে হলে দেশকে ভালোবাসতে হবে। সেই জন্য কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ দরকার। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। ১৯৭৫ সালের পর দেশকে আবার ভিক্ষুক জাতিতে পরিণত করার চেষ্টা হয়েছিল। ২১ বছর পর যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে প্রথম ৫ বছর এবং ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বারের সরকার গঠন করি। এরপর ধারাবাহিকভাবে এ পর্যন্ত সরকারে আছি বলেই আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো আজ দৃশ্যমান এবং দেশের মানুষ সুফল পেতে শুরু করেছে। আর এই উন্নয়ন বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষ অবদান রয়েছে।
