মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে (১৭) ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। সাটুরিয়া থানার ওসি মো. মতিয়ার রহমান মিঞা বলেন, ৬০ বছর বয়সী মো. মোহন মিয়ার বিরুদ্ধে গত বুধবার রাতে মামলাটি করেছেন মেয়েটির বাবা। ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটি চিকিৎসা শেষে এখন বাড়িতে রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির মামলার আসামিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ফেনী থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে কুষ্টিয়ায় এক কলেজশিক্ষিকার শ্লীলতাহানির দায়ে ওই প্রতিষ্ঠানের
সাবেক অধ্যক্ষকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে আদালত।
মানিকগঞ্জ : সাটুরিয়ার প্রতিবন্ধী তরুণীর বাবা বলেন, উপজেলার র্যাইল্লা গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে মো. মোহন মিয়া (৬০) গত ১৫ জানুয়ারি বাড়িতে মেয়েটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি গোপন রাখতে তাকে ভয়ভীতিও দেখান তিনি। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে মেয়েটি প্রতিবেশীদের বিষয়টি খুলে বলে। এরপর মেডিকেল চেকআপে জানা যায় সে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
প্রতিবেশীরা জানায়, মোহন প্রতিবন্ধী মেয়েটির বাড়ির পাশে শ্যালো মেশিন চালাত। ওই বাড়ির ওপর দিয়ে তিনি নিয়মিত চলাচল করতেন এবং সুযোগ পেয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : জোরারগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, বারইয়ারহাট ক্যাডেট মাদ্রাসার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির মামলার প্রধান আসামি জামসেদ আলমকে গতকাল সকালে ফেনী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে চট্টগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয়। জামসেদ বারইয়ারহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমের ছেলে।
তিনি আরও জানান, গত বুধবার দুপুরে মাদ্রাসায় আসার পথে মেয়েটিকে জামসেদ, শরিফসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ যুবক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। ছাত্রীটি পালিয়ে এসে ঘটনাটি মাদ্রাসার সহকারী অধ্যক্ষ ইকরাম খানকে জানায়। ইকরাম খান মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় বকাঝকা করলে ওই যুবকরা ক্ষিপ্ত হয়। পরে শ্রেণিকক্ষ থেকে তুলে নিয়ে ‘হৃদয় রেডিয়েটর’ নামে একটি দোকানে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় তারা। স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং বখাটেরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাতে জামসেদসহ আরও অজ্ঞাত ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই ছাত্রীর ভাই।
কুষ্টিয়া : পাঁচ বছর আগে কলেজশিক্ষিকার শ্লীলতাহানির দায়ে ওই প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন অধ্যক্ষকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে আদালত। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত চৌধুরী নুরুদ্দিন মো. সেলিম ওরফে সজল চৌধুরী (৫২) শহরের মিলপাড়ার বাসিন্দা চৌধুরী আব্দুল আলীর ছেলে ও সৈয়দ মাছুদ রুমী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ।
আদালতের বিশেষ কৌঁসুলি আকরাম হোসেন দুলাল জানান, আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০ ধারায় আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ১০ বছর কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৩০ মার্চ দুপুরে নুরুদ্দিন কলেজের এক শিক্ষিকার শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে ৭ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ১৩ আগস্ট অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
