ছেলেধরার সন্দেহে ঢাকার বাড্ডায় তাসলিমা বেগম রেনু নামের এক নারীকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- জাফর, বাপ্পী ও শাহিন। দেশ রূপান্তরকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম।
গত শনিবার সকালে ঢাকার উত্তর বাড্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেধরা সন্দেহে রেনুকে (৪২) পিটিয়ে মারা হয়। এই ঘটনায় রেনুর পরিবার একটি মামলা করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই সোহরাব হোসেন বলেন, বাড্ডার গণপিটুনিতে কারা জড়িত ছিল, তাদের খুঁজতে কাজ করছে পুলিশ। ছেলেধরার গুজব যারা ছড়িয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে ‘মানুষের মাথা লাগবে’ বলে সম্প্রতি ফেইসবুকে গুজব ছড়ানো হয়, যাতে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল সরকার। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়।
জানা গেছে, মহাখালীর ওয়্যারলেস গেইটে সন্তান নিয়ে থাকতেন তসলিমা। সন্তানকে ভর্তির বিষয়ে খবর নিতে ওই স্কুলে গিয়েছিলেন তিনি। বছরের মাঝে ভর্তির খোঁজ খবর নিতে যাওয়ায় কয়েকজন অভিভাবকের সন্দেহ হয়। এই সন্দেহ থেকে তাকে নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার কাছে যান কয়েকজন অভিভাবক।
সেখানে তার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়ার সময় বাইরে খবর ছড়িয়ে পড়ে ‘ছেলেধরা’ এক মহিলা ধরা পড়েছে। খবরটি মুহূর্তে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং বাজারসহ আশপাশ থেকে শতশত লোক ছুটে এসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্কুল ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে এবং মহিলাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে নিয়ে গণপিটুনি দেয়।
পুলিশ কর্মকর্তা রাজ্জাক বলেন, স্বামীর সঙ্গে দুই বছর আগে তালাক হওয়ার পর মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল তসলিমা। এজন্য এক চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসাও চলছিল তার।
এদিকে রোববার ময়নাতদন্ত শেষে রেনুর মৃতদেহ তার গ্রামের বাড়ী লক্ষ্মীপুরে নেওয়া হয়েছে বলে তার বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন টিটো জানিয়েছেন।
এই হত্যা মামলাটি টিটোই করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ৪/৫ শ জনকে আসামি করা হয়েছে।
