বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা ‘ভয়ংকর মিথ্যা তথ্য’ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গতকাল রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে নিজ ভেরিফায়েড পাতায় দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জয় এ মন্তব্য করেন।
প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। গত বুধবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছে। ওই সময় সংখ্যালঘুদের রক্ষায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাহায্য চান তিনি। তার এমন অভিযোগের বিষয়ে দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রিয়ার বক্তব্যকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্ট্যাটাসে সজীব ওয়াজেদ লেখেন, “গত নির্বাচনের পর আমি একটু বিরতি নিই, তাই এই পেজেও কম পোস্ট করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমার কিছু বলা উচিত বলে মনে হলো। আপনারা হয়তো দেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার ভয়ংকর ও মিথ্যা দাবি। উনি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে নাকি তিন কোটি ৭০ লাখ ধর্মীয় সংখ্যালঘু ‘গায়েব’ বা ‘গুম’ হয়ে গেছেন। প্রায় ৪ কোটির কাছাকাছি যে সংখ্যাটি উনি বলছেন, তা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যার ১০ গুণেরও বেশি। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের সংখ্যার কাছাকাছি। এত মানুষ গুম হলো সবার অজান্তে? ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ গায়েব হলো কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই?”
প্রিয়ার বক্তব্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীপুত্র লেখেন, ‘প্রিয়া সাহাকে আমেরিকায় পাঠানো হয় বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের মনোনয়নে। অনেক সমালোচনার পর আজ তারা একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তারা বলেছেন, তারা অংশগ্রহণকারীদের কথাবার্তার ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেন না। কিন্তু যখন তাদের একজন মনোনীত অংশগ্রহণকারী তাদেরই রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে কেন ভয়ংকর মিথ্যা বক্তব্য দিলেন, তাদের উচিত ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিবাদ জানানো, যা তারা করেননি।’
জয় বলেন, ‘এই বিষয়টি থেকে কিন্তু মার্কিন দূতাবাসেরই দুরভিসন্ধি প্রকাশ পায়। তারা জেনেশুনেই প্রিয়া সাহাকে বাছাই করে। কারণ তারা জানত, উনি এই ধরনের ভয়ংকর মিথ্যা মন্তব্য করবেন। এই ধরনের কাজের পেছনে একটাই কারণ চিন্তা করা যায়Ñ মানবিকতার দোহাই দিয়ে আমাদের এই অঞ্চলে সেনা অভিযানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। মনে রাখা ভালো, কয়েক দিন আগেই মার্কিন এক কংগ্রেসম্যান একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, বাংলাদেশের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য দখল করা উচিত।’
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সমালোচনা করে জয় বলেন, ‘মার্কিন দূতাবাস যে আওয়ামী লীগবিরোধী, তা নতুন কিছু নয়। তাদের সব অনুষ্ঠানেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা ও যুদ্ধাপরাধীরা নিয়মিত আমন্ত্রিত হতেন। প্রিয়া সাহার মিথ্যা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তাদের সরাসরি আধিপত্য বিস্তারের ষড়যন্ত্র পরিষ্কারভাবেই লক্ষ করা যাচ্ছে। সৌভাগ্যবশত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সরকার অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নীতিতে বিশ্বাসী নন। তার এ ধরনের ভয়ংকর মিথ্যা দাবি বিশ্বাস করার মতন বোকাও নন।’
