গুলিভর্তি ৬ অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে রহস্য

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৯, ০১:৩৬ এএম

রাজধানীর শ্যামপুরে পুলিশের হাতে উদ্ধার হওয়া ৬টি বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। অস্ত্র-গুলিসহ হাতেনাতে তিনজন গ্রেপ্তারের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও অস্ত্রের সরবরাহ ও সংগ্রহকারীদের এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। অস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্য কিংবা অস্ত্রের গন্তব্য কোথায় ছিল তাও বলতে পারছে না পুলিশ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলার

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মীর মো. মোজাহারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামিকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঊর্ধ্বতন স্যারেরা থাকেন, তাই আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আমি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হলেও আমাকে যেসব তথ্য আনতে বলেন, তাই সংগ্রহ করে আনি। এর বাইরে আমার আর কোনো কাজ নাই।’

তবে পুলিশের ওয়ারী জোনের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের পর পুলিশ বাদী হয়ে করা মামলার এজাহারে বাবুল নামে যে আসামির কথা বলা হচ্ছে, সেই আসামি ঘটনাস্থলেই ছিল। তাকে না ধরে গে-ারিয়ার কাঁচাবাজার এলাকা থেকে রাজু গাজী, সাখাওয়াত ও মিনহাজুল নামে যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় তারা কেউই পরস্পরের পরিচিত নন। কেউ কাউকে চেনেন না। এমনকি আগে থেকে তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগও হয়নি। ওই কর্মকর্তার তথ্যমতে, বাবুলের কাছেই অস্ত্র-গুলি ছিল।

শ্যামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধার ও তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর ডিসি স্যার সংবাদ সম্মেলন করে যেসব তথ্য দিয়েছেন তাই সঠিক। এর বাইরে অন্য কোনো তথ্য সঠিক নয়। এখন পলাতক তিন থেকে চারজনকে খুঁজছি, তাদের সবাইকে ধরতে পারলেই অস্ত্রের সব রহস্য উদঘাটন হবে।’

তবে ওয়ারী জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুন নাহার দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘মিরপুর থেকে যাত্রাবাড়ীর একটি অপরাধী চক্রের কাছে যাচ্ছিল অস্ত্র ও গুলি। সরবরাহ ও গ্রহণকারী দুই পক্ষের সদস্যদের সম্পর্কে জানতে পেরেছি, তবে গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’

গত শুক্রবার শ্যামপুরের গেণ্ডারিয়া কাঁচাবাজার এলাকা থেকে ৬টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২৮টি গুলি উদ্ধার করে শ্যামপুর থনা পুলিশ। এ সময় অস্ত্রের হাতবদলকালে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত