বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই আবেদন করেন মিন্নির আইনজীবীরা। পরে তা শুনানির জন্য ৩০ জুলাই তারিখ ধার্য
করেন বিচারক মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে থাকা এই হত্যা মামলার নথি তলব করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক।
এর আগে গত সোমবার আদালতে মিন্নির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহার এবং তার চিকিৎসার জন্য বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর হয়। বিচারক আবেদন ফেরত দিয়ে কারা কর্র্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে বলেন।
গতকাল মিন্নির জামিন আবেদন গ্রহণের পর তার আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নির জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলাম। বিচারক মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। তাই আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় আমরা বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদনের ফৌজদারি মিসকেস দাখিল করেছি। আদালত জামিন আবেদনটি গ্রহণ করেছেন।’
গত ২৬ জুন রিফাতকে প্রকাশ্যে সড়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় পরদিন নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। যাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে। কিন্তু সম্প্রতি মিন্নির শ্বশুর তার ছেলের হত্যাকাণ্ডে পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে আলোচনা নতুন দিকে মোড় নেয়। তবে শ্বশুর অভিযোগ তোলার পর মিন্নি তা অস্বীকার করে পাল্টা বলেছিলেন, দুলাল শরীফ ‘ষড়যন্ত্রকারীদের প্ররোচনায়’ পড়ে তাকে জড়িয়ে ‘বানোয়াট’ কথা বলছেন। এরপর গত ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয় আসামি শনাক্ত ও জবানবন্দি নেওয়ার কথা বলে। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর সেদিন রাতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন আদালতে হাজির করে মিন্নিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষে গত শুক্রবার বিকেলে মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়। এ সময় মিন্নির বাবা মোজ্জাম্মেল হোসেন আদালত প্রাঙ্গণে চিৎকার করে বলতে থাকেন, জোরজবরদস্তি ও নির্যাতন করে তার মেয়ের কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। মেয়ে আমার জীবন বাজি রেখে তার স্বামীকে রক্ষা করতে গেছে। এটাই তার অপরাধ? এসব কিছুই শম্ভু বাবুর (সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু) খেলা। তার ছেলে সুনাম দেবনাথকে সেভ করার জন্য আমাদের বলি দেওয়া হচ্ছে।
