ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর পরামর্শ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ০৯:৪৯ পিএম

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিদিনই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের ভীর বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। বিভিন্ন হিসেবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ২২ জনের মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু জ্বর থেকে বাঁচতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও ডিন ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ জানান, মূলত এডিস জাতীয় ভাইরাসবাহিত মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে। এডিস জাতীয় মশা- এডিস এলবোবটিকা, এডিস এবিবসাই, এডিস এলবোবটিকাস এর মধ্যে যদি এর ভাইরাসটা থাকে এবং এই মশাটা যদি কাউকে কামড় দেয়, এভাবেই কিন্তু ডেঙ্গুটা ছড়ায়। ডেঙ্গু ভাইরাস কিন্তু চার রকমের। মেডিকেল টার্মে বলা হয়- ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩, ডেন-৪। চারটি ফাইরাস। এটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বেশি।

তিনি বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করেন, ডেঙ্গু একবার হলে কি আবারো হয়? ডেঙ্গু কিন্তু চার বার হতে পারে। চারটা আলাদা ভাইরাস। কেউ যদি প্রথমে একটা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় ডেঙ্গুতে। এরপর দ্বিতীয় বার, তৃতীয় বার, চতুর্থবার হয় সেটা কিন্তু বিপদজনক হতে পারে, অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও হতে পারে।’

লক্ষণ

ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘যেকোনো ভাইরাস জ্বরে শরীরে খুব অতিরিক্ত তাপমাত্রা হয়। এই রোগের বেলায় তাপমাত্রা ১০৩-৪-৫ হতে পারে। ৪/৫ দিন জ্বর থাকে, জ্বরের সাথে প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা, শরীর ব্যাথা, কোমরে ব্যাথা, পিঠে ব্যাথা, হাড়ে ব্যাথা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এগুলো দিয়ে ডেঙ্গু খুব সহজেই বোঝা যায়।’

‘৪/৫ দিন পর চলে যাওয়ার পর লাল লাল ফুসকুঁড়ি (ঘামাচির মত) ওঠে। এসময় রক্তের প্লেটিলেট কমে যায়। রোগীর রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে। নাকে রক্ত, মুখে রক্ত, বমির সাথে রক্ত, পায়খানার সাথে রক্ত বের হতে পারে। আবার অনেকর ব্রাশ করলে দাঁতের গোড়া দিয়ে রক্ত পড়ে।’

‘মেয়েদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা বেশি হয়। দেখা যায়, ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে, রক্তপাত আর থামছে না। আগে দু-একদিনে ভালো হতো, এখন ভালো হচ্ছে না। অথবা সম্প্রতি ঋতুস্রাব শেষ হয়ে গেলো অসময়ে আবার শুরু হয়ে গেলো। এটাও ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ।’

‘যদি রক্তক্ষরণ বেশি হয়ে যায়। এর ফলে রক্তচাপ কমে যায়, প্রস্রাব কমে যায়। তখন একটা জটিল রোগ হতে পারে যাকে বলে ডেঙ্গু শকসিন্ড্রম। এতে রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়, সিরিয়াস হয়ে মারাও যেতে পারে।’

সতর্কতা

ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অনেক সময় ডাক্তার বা রোগীর ভুল হতে পারে। ৪/৫ দিন পর জ্বর চলে গেলে রোগী মনে করতে পারে, আমি তো ভালোই হয়ে গেলাম। সুতরাং ডাক্তারের কাছে যাওয়ার দরকার কী। অথবা ডাক্তার মনে করতে পারে, ৪/৫ দিনের ভাইরাস জ্বর কী আর হবে? ভালো হয়ে যাবে। এইটা কিন্তু অনেক বড় ভয়ানক ভুল।’

‘৪/৫ দিনের জ্বর কমে গেলে রক্তের প্লেটিলেট কমে রোগির রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে; ডেঙ্গুর শকসিন্ড্রম যাকে বলে, এটা হতে পারে। সেজন্য আমরা বলি ৫/৭ দিন বা জ্বরের ৪/৫ দিন পরে এই টার্মকে বলা হয় জটিল সময় (ক্রিটিক্যাল পিরিয়ড)। এটাকে কোনো সময় অবহেলা করা যাবে না। এই সময় যত অঘটন ঘটে। রোগী যদি সঠিকভাবে চিকিৎসা না নেয় তাহলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে’।

তিনি বলেন, ‘দু-একদিনের জ্বরে রক্ত পরীক্ষা করে কোনো লাভ নাই। রক্ত পরীক্ষা করা উচিত ৪/৫ দিন পরে। কারণ জ্বরের দু‘একদিন পর সিবিসি‘তে রক্ত পরীক্ষা করেই ফেলেন তাহলে রির্পোট নরমাল থাকবে। ডেঙ্গু ধরা পড়বে না। এ বিষয়ে ডাক্তার ও রোগীকে সাবধান থাকতে হবে।’

এ্যান্টিবায়োটিক খাবো কি না?

ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ডেঙ্গু হলে এ্যান্ডিবায়োটিক দেয়া যাবে না এ ধারণা ভুল। রোগীর যদি অন্য কোনো সমস্যা থাকে। সেটার জন্য যদি লাগে, ডাক্তার এ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারে। এতে ডেঙ্গুর কোনো ক্ষতি হবে না।’

চিকিৎসা

ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত হলে বিশ্রামে থাকবে, জ্বরের জন্য প্যারাসিট্যামল খাবে, ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছতে পারে। প্রচুর পানি খাবেন- শরবত, গ্লুকোজ, ডাবের পানি খাওয়া যাবে।’

‘অনেকের ভুল ধারণা থাকে ডেঙ্গু হলেই রক্ত দিতে হয়। যদি খুব বেশি রক্তক্ষরণ হয় সেক্ষেত্রে রক্ত দিতে হবে, অন্যথায় নয়। আবার প্লাটিলেট কমে গেলও তা দেয়ার দরকার নাই। কারণ ৫/৬ দিন পর আবারো প্লাটিলেট বেড়ে যাবে। যদি বেশি কমে যায় ডাক্তার যদি মনে করে তাহলে দিতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত