বাগেরহাট থেকে খুন করতে এসে রাজশাহীতে ধরা পড়েছে চার বন্ধু। শনিবার দিবাগত রাতে চারঘাট উপজেলা ফুলতলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- বাগেরহাটের মোল্লারহাট থানার রাসেল ও তার বন্ধু সজীব, মিরাজ ও কাওসার। এরা সবাই এলিট সিকিউরিটি ফোর্স কোম্পানির নিরাপত্তা কর্মী। হত্যার পর গলাকাটা গুজব বলে চালিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তারা। তবে তার আগেই ধরা পড়ে গেছে তারা।
রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ্ জানান, বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট এলাকার কাঞ্চু শিকদার ওরফে কাঞ্চনের স্ত্রী তানিয়া সৌদি আরবে বিউটি পারলারে চাকরি করেন। মোবাইলে একই এলাকার রাসেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে তানিয়া। তানিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী তার স্বামী কাঞ্চনকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাজশাহীতে কৌশলে নিয়ে আসে রাসেল ও তার তিন বন্ধু। এজন্য তানিয়া রাসেলকে ২০ হাজার টাকাও দিয়েছিল।
এসপি মো. শহিদুল্লাহ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ছেলেধরা বা গলাকাটার গুজবের সুযোগ নিতে চেয়েছিল রাসেল। কাঞ্চনকে হত্যার পর গলাকাটা বলে প্রচারের চেষ্টা করবে। এজন্য সে কয়েকদিন আগে রাজশাহীর চারঘাটের ফুলতলা এলাকার একটি বাগানকে বেছে নেয় হত্যাকাণ্ডের স্থান হিসেবে। ওই স্থানের ছবি তানিয়ার কাছে সে ইমোতে পাঠায়। ছবি দেখার পর তানিয়াও ওই বাগানটিকে নিরাপদ স্থান মনে করে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেয়।
পরিকল্পনা মতো, পাসপোর্ট করানোর নাম করে তানিয়ার স্বামী কাঞ্চনকে রাসেল ও তার তিন বন্ধু ট্রেনে করে রাজশাহী নিয়ে আসে। এরপর মিরাজ ও কাওসার কাঞ্চনকে নিয়ে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চারঘাট উপজেলার সেই আমবাগানের উদ্দেশে ব্যাটারিচালিত অটোতে চড়ে রওনা হয়। ফুলতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে কাঞ্চনের মনে সন্দেহ জাগে। সে তখনই চিৎকার করতে করতে দৌড় দেয় । এ সময় বাজারের লোকজন মিরাজ ও কাওসারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাদের কাছ থেকে ছুরি ও চেতনানাশক ওষুধ জব্দ করেছে। পুলিশের জেরার মুখে তারা মূল পরিকল্পনার কথা ফাঁস করে দেয়।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে রাসেল ও সজীবকে আটক করে ডিবি পুলিশ। রাসেল বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানার গোড়ফা গ্রামের রবিউল শেখের ছেলে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন এলাকার হাসেম আলীর ছেলে সজীব, মিরাজ ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকার মজিবরের ছেলে এবং কাওসার পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সলুয়াবাগি গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে।
পুলিশ সুপার আরো জানান, কাঞ্চনকে হত্যার বিষয়ে তানিয়ার সঙ্গে রাসেলের ফোনালাপ ও ইমোতে কথোপকথনের অডিও পাওয়া গেছে।
