ধ্বনি বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের জন্মশতবার্ষিকী পালন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়েছে সেমিনার।
আরসি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান, চলবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত।
প্রথম অধিবেশনের শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। আর সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।
দুপুরের পর দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি হচ্ছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাইউম। ধন্যবাদ জ্ঞাপনে থাকছেন অধ্যাপক সিরাজ সালেকীন।
সেমিনারের উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলো হলো-
অধ্যাপক পবিত্র সরকার; প্রবন্ধ: বাংলা স্বরোচ্চতাসাম্য : ধ্বনি পরিবর্তনের একটি ব্যাপক নিয়ম
অধ্যাপক মনসুর মুসা; প্রবন্ধ : মুহম্মদ আবদুল হাই: বাংলা ভাষাবিজ্ঞানের দিক নির্দেশক
অধ্যাপক মনিরুজ্জামান; প্রবন্ধ: ভাষার রাজনীতি ও রাজনীতির ভাষা
অধ্যাপক মহাম্মদ দানীউল হক; প্রবন্ধ: ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাই
অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্য; প্রবন্ধ: একটি গণ্ডূষে সমুদ্র
অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য্য; প্রবন্ধ: অধ্যাপক মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের ভাষা ও ব্যাকরণচিন্তা
অধ্যাপক দেবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়; প্রবন্ধ: কথার সুর, সুরের কথা
অধ্যাপক সৈয়দ শাহরিয়ার রহমান; প্রবন্ধ: বাংলা নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি: মুহম্মদ আবদুল হাই।
মুহম্মদ আবদুল হাই: জন্ম ১৯১৯ সালের ২৬ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে। ১৯৩৬ সালে উচ্চ মাদ্রাসা প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন, ঢাকা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ভর্তি হন। ১৯৩৮ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে ষষ্ঠ স্থান লাভ করেন। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর প্রেরণায় ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে বিএ অনার্সে ভর্তি হন আবদুল হাই। ১৯৪১ সালে অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় এবং ১৯৪২ সালে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। তিনিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্র, যিনি বিএ ও এমএ উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।
ঢাকা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজে এক মাস শিক্ষকতা করার মাধ্যমে মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের কর্মজীবনের শুরু। এরপর বেঙ্গল জুনিয়র এডুকেশন সার্ভিসে বাংলার প্রভাষক পদে যোগ দেন এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কৃষ্ণনগর সরকারি মহাবিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী সরকারি কলেজে প্রভাষক হয়ে চলে আসেন।
১৯৪৯ সালের ২ মার্চ হাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। ১৯৫০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আবদুল হাই লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে ভাষাতত্ত্বে গবেষণার জন্য যান। সেখানে অধ্যাপক জে আর ফার্থের নির্দেশনায় ‘আ স্টাডি অব ন্যাসালস্ অ্যান্ড ন্যাসালাইজেশন ইন বেঙ্গলি’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভ রচনা করেন এবং ১৯৫২ সালে ডিস্টিংশনসহ এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে প্রভাষক পদে ফিরে আসেন। ১৯৫৪ সালের ১৬ নভেম্বর বিভাগের রিডার বা সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত হন। ১৯৬২ সালে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে রিডার থেকে প্রফেসর পদে তার উন্নতি ঘটে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিভাগের অধ্যক্ষ ছিলেন। ১৯৬৯ সালের ৩ জুন মারা যান ঢাকায় আবদুল হাই।
তার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য ও সংস্কৃতি, বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন, তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা, ভাষা ও সাহিত্য, এ ফোনেটিক অ্যান্ড ফোনোলোজিক্যাল স্টাডি অব ন্যাসালস্ অ্যান্ড ন্যাসালাইজেশন ইন বেঙ্গলি, ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব এবং (সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে) বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত। প্রবন্ধ ও গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রণয়নের জন্য ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন মুহম্মদ আবদুল হাই।
