চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে শিশু গৃহকর্মী হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৯, ০২:২৩ এএম

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের এক শিশু গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম ফাতেমা (৮)। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে লাশ উদ্ধার করে খিলগাঁও থানা পুলিশ। শিশুটি কমলাপুরের জসীমউদদীন রোডে এক চিকিৎসক দম্পতির বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত। চিকিৎসক দম্পতির দাবি, শিশুটি ডেঙ্গুজ¦রে মারা গেছে।  তবে শিশুর মা শিখা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘ডাক্তার জাহাঙ্গীর আমাকে ফোনে বলেছেন ফাতেমা ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। কিন্তু আমার মেয়ে ডেঙ্গুজ¦রে মারা যায়নি। তাকে বুকে চাপা দিয়ে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই  হত্যাকান্ডের বিচার চাই।’

তিনি আরও জানান, তাদের বাসা নন্দীপাড়া ছোট বটতলার ১০ নম্বর গলিতে। তার স্বামী দুলাল মিয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী। শিখা বেগম নিজেও একটি এনজিওতে কাজ করেন। সংসারে অভাবের কারণে ছোট মেয়েকে দেড় মাস আগে কমলাপুর জসীমউদদীন রোডে তার অফিসের জনৈক সুইটি ম্যাডামের মাধ্যমে একটি বাসায় কাজে দেওয়া হয়েছিল। বাসার গৃহকর্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম। গৃহকর্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক। ডাক্তার জাহাঙ্গীর তাদের জানিয়েছিল ফাতেমা অসুস্থ, তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু ফাতেমা কী ধরনের অসুস্থ হয়েছে তা বলা হয়নি। পরে বুধবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় ফাতেমা। মৃত্যুর পর তাদের জানানো হয়, ডেঙ্গুজ্বরে মারা গেছে ফাতেমা। কিন্তু বাসায় লাশ আসার পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সন্দেহ হলে খিলগাঁও থানায় অভিযোগ করেন তারা।

মতিঝিল থানার এসআই আবু জাফর সুতরহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ফাতেমার মাথার ডান পাশে কানের ওপর কালো জখম ছিল। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। হাতের আঙুলে ছোলা জখম ছিল। বুকের মাঝ বরাবর কালো জখম ও বুকের বাম পাশে ছোট কালো জখম ছিল। দুই পায়ের হাঁটু থেকে উরু পর্যন্ত ফোলা জখমের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া পিঠের বিভিন্ন স্থানে জখমের দাগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল মতিঝিলে হওয়ায় খিলগাঁও থানা পুলিশ বিষয়টি মতিঝিল থানায় পাঠায়।

সুরতহালে আরও বলা হয়,  ফাতেমা ১১/৩/এ কবি জসীমউদদীন রোডের চতুর্থ তলায় ডাক্তার জাহাঙ্গীরের বাসায় কাজ করত। ২৫ জুলাই জ¦রে আক্রান্ত হয় সে। ২৮ জুলাই ফাতেমার মা শিখা বেগমকে খবর দিয়ে তাকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়ে। পরে ৩০ জুলাই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন সন্ধ্যায় ফাতেমা মারা যায়।

খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, ‘ফাতেমার বাসা খিলগাঁও থানা এলাকায়, কিন্তু ঘটনা মতিঝিল থানা এলাকায়। এ বিষয়ে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবে। মতিঝিল থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যুর মামলা নিয়েছি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার প্রমাণ পেলে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত