ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বাসিন্দারা গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা পেতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। বৃহস্পতিবার দিল্লি সরকারের প্রধান মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিনামূল্যে বিদ্যুতের ঘোষণা দিয়েছেন।
ঘোষণায় তিনি বলেন, ‘দিল্লির বাসিন্দারা যদি মাসে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তা হলে এজন্য কোনো বিল দিতে হবে না। দেশে এখন সবচেয়ে সস্তায় বিদ্যুৎ মিলবে দিল্লিতে। আম আদমির জন্য এটা ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ভিআইপি ও বড় রাজনীতিকরা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পেলে কেউ কিছু বলে না। সাধারণ মানুষকে কেন বঞ্চিত করা হবে?’
তবে বিদ্যুৎ ব্যবহার যদি ২০০ ইউনিটের বেশি হয় অর্থাৎ ২০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের মধ্যে থাকে, তা হলে এখন ইউনিট প্রতি যে বিল দিতে হয় বৃহস্পতিবার থেকে তা অর্ধেক দিতে হবে। বাকি ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেবে দিল্লি সরকার।
কেজরিওয়ালের ডেপুটি মনীষ সিসোদিয়া টুইটবার্তায় বলেন, ‘সুশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বাসাবাড়িতে লাইট, ফ্যান চালানোও একটি অধিকার।’ কেজরিওয়াল সরকার দিল্লিতে আরও একটি নজির গড়েছে। বিদ্যুতের বিল যাদের কোনো মাসেই ২০০ ইউনিটের বেশি হয় না, তাদের জন্য চালু হল ‘ফ্রি লাইফলাইন ইলেকট্রিসিটি’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যারা থাকবেন, তাদের বাড়িতে কোনো দিনই বিদ্যুতের বিল পাঠানো হবে না।
কেজরিওয়ালের মতে, মাসে যাদের বিদ্যুৎ বিল ২০০ ইউনিটের বেশি হয় না, দিল্লির এমন ৩৩ শতাংশ গ্রাহক এর ফলে উপকৃত হবেন। তার কথায়, ‘শীতে দিল্লির ৭০ শতাংশ মানুষের মিটার থাকে ২০০ ইউনিটের মধ্যে। সে ক্ষেত্রে বহু মানুষ উপকৃত হবেন।
তবে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি কেজরিওয়ালের এই ঘোষণাকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দিল্লি বিজেপি প্রধান মনোজ তিওয়ারি বলেন, ‘এটা কেজরিওয়ালের পার্টির কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এটা বিজেপির সংগ্রামের ফসল। একে আমরা দুই দিক দিয়ে দেখতে পারি। নির্বাচনের আগে মানুষকে আকর্ষণ করতে এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। দিল্লির জনগণের সাত হাজার কোটি রুপি লুট করেছে তারা।’
