বিয়ের আসরে কনের বাবাকে খুন

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর কারাগারে বখাটে

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৯, ০২:৪৯ এএম

বিয়ের আসর থেকে কনে তুলে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গিয়েছিল বখাটে সজীব আহমেদ ওরফে রকি ওরফে ভ্যালকা রকি। তার টার্গেট ছিল চাকু দেখিয়ে সবাইকে জিম্মি করা। রকি গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ দিদার হোসাইনের কাছে কনের বাবা  তুলা মিয়াকে হত্যার মামলায় এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানান হাতিরঝিল থানার ওসি আবদুর রশিদ।

তিনি বলেন, ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রকি আরও বলে, কিন্তু কনের বাবা তুলা মিয়া বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণে তাকে আঘাত করেছি। মা ফিরোজা বেগম বাধা দিলে তাকেও ছুরি দিয়ে ঘাই মেরেছি।’ ওসি বলেন, সজীব দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, রকি চূড়ান্ত মাত্রায় বখাটে ছিল। স্বপ্নার প্রতি তার একপক্ষীয় ভালোবাসা ছিল। সেই মোহে তাকে তুলে আনার জন্যই গিয়েছিল বলে আদালতের কাছে জানিয়েছে রকি।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে বিয়ের আসরে কনের বাবা তুলা মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় রাতেই মামলা করেন তার ছেলে। মামলায় খুনের অভিযোগ এনে বখাটে সজীব আহমেদ রকিকে (২৩) আসামি করা হয়।

হাতিরঝিল থানার একাধিকা কর্মকর্তা জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রকি বলে, ‘স্বপ্নাকে তুলে নিতে গিয়েছিলাম।’ কিন্তু প্রথমেই তার বাবা-মা বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণে তাদের আঘাত করেছি। এমন কথা আদালতের কাছেও বলেছে রকি।

স্বপ্নার বিয়ের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিজিএমইএ ভবনের দক্ষিণ পাশের রাস্তা দিয়ে হাঁটাহাঁটি করছিল রকি। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নিরাপত্তার স্বার্থে বর আসার আগেই প্রিয়াঙ্কা শ্যুটিং হাউজের দুটো গেটেই তালা মেরে রাখা হয়েছিল। তবে দুপুরে সীমানাপ্রাচীর ডিঙিয়ে ভেতরে ঢুকে রকি সোজা চলে যায় দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে। ওই কক্ষে স্থানীয় বিউটিশিয়ান পারভীন সুলতানা স্বপ্নাকে সাজাচ্ছিলেন। তখন স্বপ্নাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এগিয়ে যান প্রিয়াঙ্কা শ্যুটিং হাউজের নিরাপত্তাকর্মী আল আমিনসহ আরও কয়েকজন। তারা রকিকে জোর করে টেনে দ্বিতীয় তলা থেকে নামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে তুলা মিয়ার বুকে ও পেটে ছুরি মেরে দেয় রকি। এ সময় তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে সে। রকির ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তুলা মিয়া। তার স্ত্রী ফিরোজা ভর্তি রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। 

বৃহস্পতিবার দুপুরের ওই ঘটনার তিন ঘণ্টা পর স্থানীয়দের উদ্যোগে ওই আসরেই চট্টগ্রামের হালিশহরের বাসিন্দা মো. আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় ফাতেমা আক্তার স্বপ্নার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত