মোবাইল ফোনে বিভিন্ন পরিচয়ে ভোলার সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে চাঁদা দাবি করছে দুর্বৃত্তরা। গত কয়েকদিন ধরে দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত কয়েকটি নম্বর থেকে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সরকারি ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের শিক্ষকদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে পরিবারের সকলকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় আতঙ্কিত শিক্ষকরা ভোলা সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত ৪ আগস্ট ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান খানের কাছে ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। এর আগে গত ৩ আগস্ট পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টির সদস্য পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে সরকারি ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের সাত শিক্ষকের কাছে দাবি করা হয় চাঁদা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান জানান, ঢাকার একটি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ০১৭৮৮-৯৭৪৭২৭ নম্বর থেকে তাকে ফোন করে দুর্নীতির অভিযোগ করা হয় এবং তা পত্রিকায় প্রকাশ না করতে বিকাশে টাকা চাওয়া হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান খান বলেন, গত রবিবার ঢাকার একটি পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান পরিচয় দিয়ে ০১৯৫৮-৪৪২০৬৫ নম্বর থেকে ফোন করে বলে ‘আপনার নামে অনেক দুর্নীতির অভিযোগ আছে। নিউজ বন্ধ করতে হলে ৬০ হাজার টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।’
অপরদিকে, সরকারি ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের শিক্ষকরা জানান, গত শনিবার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইসরাফীলকে পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির নেতা মজুমদার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ০১৯৪৭-৯০৮৯৯৮ নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করে। এরপর ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহকে ফোন করে ০১৯৮৮-১৩৪১০২ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা বিকাশ দাবি করা হয়। বিকাশ না করলে পরিবারের সকলকে হত্যা করা হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়। একইভাবে ওই কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হুমায়ূন কবির, সহকারী অধ্যাপক ফরিদুজ্জামান, সালাউদ্দিন আহমেদ, পিকি রানি সাহা ও মো. হারুনের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়। হুমকি দেওয়ার পর থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে দিন পার করছেন বলে জানান শিক্ষকরা।
সরকারি ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইসরাফিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিছুদিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিএস পরিচয়ে আমার থেকে সকল শিক্ষকের ফোন নম্বর নেন এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। পুলিশ সুপারের পরামর্শে আমরা জিডি করেছি।
ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, এরা ঈদভিত্তিক প্রতারণা চক্রের সদস্য হতে পারে। তবে দ্রুত তাদের অবস্থান শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
