গ্রামীণফোন-রবির প্যাকেজ নবায়ন বন্ধের উদ্যোগ

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩:৫৪ এএম

মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির বিদ্যমান প্যাকেজের নবায়ন বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। অপারেটর দুটির কাছে বকেয়া ১৩ হাজার ৪৪৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আদায়ের লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ নিচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সম্প্রতি সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে গ্রামীণফোন ও রবির বিদ্যমান প্যাকেজ নবায়ন বন্ধ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে বিটিআরসি। গতকাল বিটিআরসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে বকেয়া আদায়ের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্যাকেজ নবায়ন বন্ধ কার্যকর করবে বিটিআরসি।

এর আগে সরকারের পাওনা অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে নতুন প্যাকেজ অনুমোদন স্থগিতের পাশাপাশি অপারেটর দুটিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা এক সংবাদ সম্মেলনে জানায় বিটিআরসি।

গ্রামীণফোন ও রবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্যাকেজ নবায়ন বন্ধের উদ্যোগ নিলে গ্রাহকরা আরও ভোগান্তিতে পড়বে। এরই মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা নতুন প্যাকেজে অনাপত্তিপত্র না দেওয়ায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

বর্তমানে প্রমোশনাল অফার ছাড়া গ্রামীণফোনের ৪০টি ভয়েস ও ডেটা প্যাকেজের অনুমোদন রয়েছে। অন্য অপারেটর রবি বিটিআরসির অনুমোদন নিয়ে গ্রাহকদের শতাধিক প্যাকেজ ও অফার দিচ্ছে। সাধারণত বিটিআরসি এক বছরের জন্য প্যাকেজের অনুমোদন দিয়ে থাকে এবং কমিশনের সম্মতিতে প্যাকেজগুলো এক বছরের বেশি সময়ও চালিয়ে যেতে পারে অপারেটররা। এখন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে যদি বিটিআরসি অনুমোদন পেয়ে যায়, তাহলে অপারেটররা বিদ্যমান প্যাকেজগুলো আর চালাতে পারবে না।

বিদ্যমান প্যাকেজের নবায়ন বন্ধ ছাড়াও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে গ্রামীণফোন ও রবির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে নাÑ এ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানোর প্রস্তাবও মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বিটিআরসি।

বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় গত ৪ জুলাই গ্রামীণফোনের ৩০ শতাংশ ও রবির ১৫ শতাংশ ব্যান্ডইউথ কমিয়ে দেয় বিটিআরসি। এই নির্দেশনা কার্যকরের পর থেকে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা নানা সমস্যায় পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সমস্যার পাশাপাশি বাফারিং ছাড়া ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ইউটিউব দেখা যাচ্ছিল না। অন্যদিকে কল ড্রপের সংখ্যাও বেড়ে যায়। গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়ায় গত ১৭ জুলাই ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে অপারেটর দুটিকে অনাপত্তিপত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি।

যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোন ও রবি অজিয়াটার কাছে সরকারের পাওনা দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ও রবি অজিয়াটার কাছে ৮৬৭ কোটি বকেয়া রয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির পাওনা ও এর সুদ মিলিয়ে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা দাবি করে গত ২ এপ্রিল চিঠি পাঠায় বিটিআরসি। তবে বিটিআরসির পাওনা দাবির সঙ্গে একমত নয় অপারেটর দুটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত