যে কারণে বিসিএস’র চাকরি ছেড়ে শিক্ষক হলেন এ তরুণ

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০৬:১৩ পিএম

লাখো শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন থাকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানজনক চাকরি পাওয়ার। এ জন্য অনেকের অক্লান্ত চেষ্টা আর পরিশ্রম থাকে সর্বাত্মক। কিন্তু চাইলেই কি দেশের সর্বোচ্চ সম্মানজনক চাকরি বিসিএস ক্যাডার হওয়া যায়? বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য থাকতে হয় অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর প্রস্তুতি। পড়ালেখার পাশাপাশি থাকতে হয় আনুষঙ্গিক জ্ঞানও।

একজন বিসিএস ক্যাডার হতে গেলে সফলভাবে প্রিলিমিনারি, লিখিত, মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর থাকে ভেরিফিকেশনসহ আরো অনেক ধাপ। এত কিছুর পরেও বিসিএস অনেকের স্বপ্ন।

তবে দিনাজপুরের হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি তত্ত্ব বিভাগের ওবায়দুল্লাহ সাদ্দাম হোসেনের স্বপ্ন আরো বড়। ওবায়দুল্লাহ সাদ্দাম ৩৬তম বিসিএস-এ কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করে বেশ দিন চাকরি করেন। তবে সম্প্রতি কর্মকর্তার পদ ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেছেন তিনি।

জানা যায়, ওবায়দুল্লাহ সাদ্দাম রংপুরের বাবুখা গ্রামের মো. শাহাদত আলীর ছেলে। তিনি বিগত ৩৬তম বিসিএস ও ৩৭তম বিসিএস এ সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রথমবার ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষা দিয়েই কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। সেখানে কিছুদিন চাকরির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি তত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।

বিসিএস ছেড়ে শিক্ষকতা পেশায় আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকতা আমার কাছে কোনো পেশা নয়। এটি পরম শ্রদ্ধার একটি জায়গা। ছাত্র অবস্থায় শিক্ষকতার প্রতি আমার আলাদা একটা ভালো লাগা কাজ করত। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সুযোগ পেয়ে বিসিএস ছেড়ে শিক্ষকতায় চলে আসা।’

ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ওবায়দুল্লাহ সাদ্দাম বলেন, ছাত্রজীবনে আমি খুব বেশি ভালো ছাত্র না হলেও খারাপ ছিলাম না। বন্ধুরা কোনো জিনিস না বুঝলে আমি তাদের বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতাম। স্যারদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যান্য কাজও করতাম।

তিনি বলেন, আমি হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই কৃষি তত্ত্ব বিভাগ থেকে ৩.৮১ সিজিপিএ নিয়ে অনার্স এবং ৩.৯৬ নিয়ে কৃষি তত্ত্ব বিভাগে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি।    

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ওবায়দুল্লাহ সাদ্দাম বলেন, ‘গবেষণা আমার ভীষণ প্রিয় একটি কাজ। ছাত্রজীবন থেকে আমার গবেষণার প্রতি ঝোঁক বেশি। মূলত সে কারণে শিক্ষকতায় আসা। শিক্ষকতায় গবেষণা কাজের সে সুযোগ রয়েছে। আমি দেশের চাহিদা ভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চাই। আপাতত এটিই আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত