নিট ৫০ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০১:০২ এএম

২০১৮-১৯ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ছিল প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এক বছরে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকারের ধার বেড়েছে ৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। উচ্চ সুদহারের কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকারের ঋণ গ্রহণ করতে পারলেও বেসরকারি অনেক ব্যাংকই রয়েছে তারল্য সংকটে। যদিও সরকার সঞ্চয়পত্রে উচ্চ সুদহার বজায় রাখলেও সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আমানতের সুদহার নামিয়ে আনতে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ছিল ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ হিসাবে এক বছরে সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি বেড়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

চলতি বছরের জুনে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ছিল ৩ হাজার ২০৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের জুন মাসে ছিল ৩ হাজার ১৬৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তুলনায় সুদহার বেশি হওয়ার কারণে গ্রাহকরা সঞ্চয়পত্রে বেশি ঝুঁকছেন। ফলে গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে রয়েছে।

সরকার সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক শূন্য ৪ ও ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ সুদ দিয়ে থাকে। অপরদিকে কিছু ব্যাংক আমানতের বিপরীতে মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ সুদহারের প্রস্তাব দিচ্ছে। যদিও বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন মেয়াদের স্থায়ী আমানতের বিপরীতে ৬ থেকে ৮ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। ফলে সঞ্চয়পত্রের সুদহার তুলনামূলক বেশি থাকায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আমানত সংকটে ভুগছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যদিও ২০১৯-২০ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ব্যাংক খাতে তারল্য সংকটের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, ব্যাংক খাতে ৮৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। তবে খাতটিতে লিকুইডিটি মিসম্যাচ রয়েছে বলে জানান তিনি।

উচ্চ সুদহার ছাড়াও সঞ্চয়পত্রে একশ্রেণির গ্রাহককে উৎসাহিত করতে বিনিয়োগে করছাড়ের সুবিধা দিয়েছে সরকার। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ অনুযায়ী একজন ব্যক্তি করদাতা পুঁজিবাজার, পেনশন স্কিম, সঞ্চয়পত্রসহ ২৩টি খাতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ করছাড়ের সুবিধা পেয়ে থাকেন। একজন করদাতা কর অব্যাহতির মোট আয় এবং আয় হ্রাস হার উপার্জন অথবা দেড় কোটি টাকা অথবা প্রকৃত বিনিয়োগ, যেটা সর্বনিম্ন হয় তার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ করছাড়ের দাবি জানাতে পারেন। ১০ লাখ টাকার নিচে এমন ধরনের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ করছাড় দিয়ে থাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। আর নির্ধারিত বিনিয়োগ যদি ১০ লাখ টাকার বেশি হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে করছাড়ের পরিমাণ হবে ১০ থেকে ১২ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে আয়কর রেয়াতের বিষয়টি যৌক্তিক করতে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি বছরই এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ও তা বাস্তবায়নে এনবিআরকে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুদহার না কমালেও সুদ আয়ের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে। ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুদ আয়ের ওপর পূর্বের কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। আর  ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগে সুদ আয়ের ওপর পূর্বের ৫ শতাংশ করহার বহাল রাখা হয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৬৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। বিদায়ী অর্থবছর সঞ্চয়পত্রের সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৮৭ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত