বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৫ তম জন্মবার্ষিকী জন্মস্থান নড়াইলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল- কোরআন খানি, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শিল্পীর সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, মাজার জিয়ারত, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
শনিবার সকাল ৬টায় জেলা প্রশাসন ও এসএম, সুলতান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কোরআন খানির মধ্যদিয়ে শিল্পীর জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়।
সকাল সাড়ে ৭টায় শিশুস্বর্গে দুই শতাধিক শিশুর অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
শিশুরা প্রাকৃতিক দৃশ্য, শিল্পী সুলতান, বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন দৃশ্য রঙের আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলে।
সকাল সাড়ে ৮টায় এসএম সুলতান কমপ্লেক্স চত্বরে শিল্পীর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন জেলা প্রশাসন, এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন, নড়াইল প্রেসক্লাব, এসএম সুলতান বেঙ্গল চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, লাল বাউল সম্প্রদায়, গ্রেভ শিল্পী গোষ্ঠী, মুর্ছনা সাংস্কৃতিক সংসদ, বাপ্পী স্মৃতি সাংস্কৃতিক একাডেমিসহ সরকারি ও বে-সরকারি বিভিন্ন সমাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।
পরে শিশুস্বর্গের সভাকক্ষে শিল্পীর জীবন ও বর্ণাঢ্যময় কর্মজীবনের ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মাহবুবুর রশীদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজিম উদ্দিন, এনডিসি মোহাম্মদ আল-আমিন, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর সিদ্দিকীসহ চিত্রশিল্পী ও সুলতান ভক্ত এবং শিশু-কিশোররা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা শিল্পী সুলতানের দুর্লভ চিত্রকর্মকে সংরক্ষণ, সুলতান সংগ্রহশালাকে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন ব্যাপারে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, বিশ্ববরেণ্য এই শিল্পী ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এসএম সুলতান ১৯৮২ সালে ‘একুশে পদক’, ১৯৮৪ সালে ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ ১৯৮৬ সালে ‘বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পেয়েছেন।
এছাড়াও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন।
অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর নড়াইলে প্রিয় জন্মভূমিতে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
