এডিটরস গিল্ড অব ইন্ডিয়ার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। আরও বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে মিডিয়ার স্বাধীনতা এবং যথাযথ ও সঠিক সংবাদ পরিবেশনের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।
দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ’ সত্ত্বেও যারা মাঠপর্যায় থেকে সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছেন তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে গিল্ড।
সোমবার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্র শাসিত দুটি অঞ্চল ঘোষণার পর ওই অঞ্চল কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু ভ্রাম্যমাণ সাংবাদিক উপত্যকার বাইরে চলে আসায় তারা প্রতিবেদন দাখিল করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু কঠোর পরিস্থিতির কারণে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো কোনো খবর দিতে পারছে না।
আরও বলা হয়, সরকার ভালো করেই জানে ইন্টারনেট ছাড়া সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ অসম্ভব বিষয়। তাই বিধি-নিষেধ তুলে গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান মিডিয়াকে অবাধ করা জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজের জন্য কাশ্মীরে নিষেধাজ্ঞা খানিকটা শিথিল করা হয়। ওই সময় কিছু প্রতিরোধের খবর পাওয়া যায়। বিক্ষোভকারীদের দিকে পেলেট গান ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ফোন ও ইন্টারনেট সেরা এখনো বিচ্ছিন্ন।
এদিকে কাশ্মীর টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক অনুরাধা বাসিন শনিবার সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। সেখানের তিনি রাজ্যের সাংবাদিক ও অন্যান্য মিডিয়া কর্মীদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনা চেয়েছেন।
আবেদনে বলা হয়, সংবাদমাধ্যম ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য ফটো সাংবাদিক ও সাংবাদিকদের চলাফেরার ওপর থাকা কড়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধের মাধ্যমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো অবিলম্বে শিথিল করতে হবে।
তিনি আরও জানান, সকল ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞায় থাকায় ‘কাশ্মীর টাইমস’-এর কাশ্মীর সংস্করণ মুদ্রণ ও প্রকাশ করতে পারেননি।
