ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গরুর ট্রাকে মানুষ, ৩৫ কি.মি. জট

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৯, ১২:০১ পিএম

ঈদের আগের দিনেও ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে চলছে ট্রাক। ঢাকাগামী গরু বহনকারী ট্রাকেই বাড়ি যাচ্ছেন ঈদে ঘরমুখী উত্তরের মানুষ। এতে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে বলে জানালেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব থেকে মির্জাপুরের পাকুল্লা পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

রবিবার ভোর ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কে থেমে থাকতে দেখা গেছে যানবাহন। সকাল সাড়ে ৯টার পর উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ এলেঙ্গাতে থেমে থাকা যানবাহন চলতে থাকে।

image

তারপর থেকেই খুবই ধীরগতিতে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। যানজটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ঘরমুখো মানুষ। তবে পুলিশ রাস্তায় যানজট নিরসনে কাজ করছেন।

এদিকে ঈদের আগের দিন রবিবার গরুসহ ব্যাপক সংখ্যক মালবাহী ট্রাক ঢাকায় যেতে দেখা গেছে। আবার ওই গরুর ট্রাকেই বাড়ি যাচ্ছেন ঈদে ঘরমুখী মানুষ।

রবিবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের পাকুল্লা, বাঔখোলা, করটিয়া বাইপাস, নগর জালফৈই, রাবনা বাইপাস ও এলেঙ্গা এলাকায় তীব্র যানজট রয়েছে। উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনগুলো দাঁড়িয়ে আছে। আর ১০টার দিকে কিছুটা সামনে এগোচ্ছে, আবার থমকে যাচ্ছে।

ঈদের আনন্দ প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে ঘরমুখো মানুষের কষ্টের শেষ নেই। অনেকে বাস কিংবা ট্রাকের ছাদে ধুলা ও প্রচণ্ড রোদে পুড়ে বাড়ি ফিরছেন। রাস্তায় গাড়িতে বসে থাকতে থাকতে তাদের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। শিশু ও বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের চেয়ে ট্রাকের পরিমাণ বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

image

ঢাকা থেকে রংপুরগামী চাদনী পরিবহনের আখী বেগম নামের নারী যাত্রী বলেন, ‘আমি গত রাত ৭টায় স্বামী-বাচ্চা নিয়ে বের হয়েছি। সকাল ৯টাতেও এলেঙ্গা বসে আছি। সারারাত আমার ছেলেটা কান্নাকাটি করছে, গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে ওর তাই সকালে রাস্তার পাশের পুকুরে গোসল করাই আনলাম।’

ট্রাকের ছাদে থাকা তানিয়া নামের এক গার্মেন্টস শ্রমিক বলেন, ‘রাত ১০টায় সাভার থেকে রওনা হইছি। এখন ভোর ৬ট এখনো করটিয়া জ্যামে বসে আছি। জানি না কখন বাড়ি যাইতে পারবো।’

রসুলপুরে আটকেপড়া উত্তরবঙ্গগামী সাকের নামে এক বাসচালক বলেন, অন্য বারের থেকে এবার মনে হয় যানজট বেশি হইতাছে।

টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর এশরাজুল হক বলেন, উত্তরবঙ্গের দিকে সড়কের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি যানবাহন থাকায় সিরাজগঞ্জ প্রান্তে গাড়ি টানতে পারছে না। সেইসাথে কিছু গাড়ি রাস্তায় বিকল হয়। এই কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

image

বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাসুদ রায়হান বলেন, গত রাত ১টা ১৮মিনিট থেকে আজ রবিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন সময় মোট ৬বার সেতু হয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানচলাচল বন্ধ থাকে।

মাসুদ রায়হান আরো বলেন, এটা সেতুর টোল আদায় বা টাঙ্গাইলের অংশের কোনো সমস্যা না। শুধু সিরাজগঞ্জ থেকে গাড়ি না টানতে পারার কারণে সেতু দিয়ে যান পারাপার বন্ধ থাকে। তাই ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত এই যানজটের সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, শনিবার ভোর ৬টা থেকে রবিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৩৩ হাজার ২০২টি যানবাহন পারাপার এবং ২ কোটি ৪৩ লাখ ৬৭ হাজার ১৩০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ প্রান্তে কড্ডা মোড়, হাটিকমরুল ও নকলা এলাকায় গাড়ি টানতে না পারায় সেতুতে কয়েক বার টোল আদায় কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

টাঙ্গাইলে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, ঢাকার চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলে এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেনের কাজ শেষের দিকে। যানবাহনের চালকরা চার লেনের সুবিধা পাচ্ছেন। এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধুসেতুর পূর্ব পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার এলাকা দুই লেন। তাই চার লেনের গাড়ি দুই লেনের সড়কে ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এছাড়া এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খানাখন্দের ফলে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে। ফলে যানজট ও ধীরগতি হয়। আশা করি বিকেল পর্যন্ত যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত